Dhaka ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা: গবেষণা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৪০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

বিশ্বজুড়ে চলমান রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, ভয়াবহ দাবানল এবং সুপেয় পানির সংকট সৃষ্টি করেছে চলতি বছরের শক্তিশালী প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’। এর মারাত্মক প্রভাবে চলতি বছরের জুন থেকে আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত চার লাখ ৫১ হাজার (প্রায় সাড়ে চার লাখ) মানুষের তাপমাত্রাজনিত কারণে প্রাণহানি ঘটতে পারে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই অতিরিক্ত প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো; যেসব দেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া খাদ্যসংকট ও জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত উচ্চমূল্যের সঙ্গে কঠোর সংগ্রাম করছে। গবেষণার সহ-লেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন জানান, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই এল নিনোর প্রভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকি এখনই শেষ হচ্ছে না; বরং চরম আবহাওয়ার এই প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত ব্যাপকভাবে অনুভূত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যে অঞ্চলগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র, সেখানে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক। অন্যদিকে উন্নত ও ধনী দেশগুলোতে পর্যাপ্ত শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), সুপেয় পানির সুব্যবস্থা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকায় তারা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার আনুমানিক প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুহারে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই সংক্রান্ত বিস্তর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়কালের সম্ভাব্য মৃত্যুর হার তুলনা করে এই চরম ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বের করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জলবায়ুজনিত এই তাপমাত্রার প্রধান ধকল যাবে গ্লোবাল সাউথের ওপর। বিশেষ করে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক ‘সাহেল অঞ্চল’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে; যেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে যৌথভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০; ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য বেশ কিছু তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ প্রদান করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে তাপদাহের কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু, বিভিন্ন স্থানে শীতলীকরণ কেন্দ্র ও বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালগুলোর জরুরি সক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়স্ক ও শারীরিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা। পাশাপাশি চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির আগেই যেন সরকারগুলো প্রশাসনিকভাবে জরুরি অর্থ ছাড় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের’ (Forecast-based Financing) আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

প্রতিবেদনটির বিষয়ে মতামত দিতে গিয়ে ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি জানান, এই গবেষণাটি কোনো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চ্যালেঞ্জ।

প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র এল নিনোর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তপ্ত হয়ে থাকা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যুক্ত হয়ে তাপমাত্রার এই ঝুঁকিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বছরের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম তাপদাহের দিন তৈরি করবে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, বর্তমানের এই চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধি মূলত আজ থেকে ২০ বছর পর পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হবে, তারই একটি পূর্বাভাস দিচ্ছে; যা এখনই কার্যকর নীতি নির্ধারণ ও হাজার হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার একটি বড় সুযোগ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা: গবেষণা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৪০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে চলমান রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, ভয়াবহ দাবানল এবং সুপেয় পানির সংকট সৃষ্টি করেছে চলতি বছরের শক্তিশালী প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’। এর মারাত্মক প্রভাবে চলতি বছরের জুন থেকে আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত চার লাখ ৫১ হাজার (প্রায় সাড়ে চার লাখ) মানুষের তাপমাত্রাজনিত কারণে প্রাণহানি ঘটতে পারে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই অতিরিক্ত প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো; যেসব দেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া খাদ্যসংকট ও জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত উচ্চমূল্যের সঙ্গে কঠোর সংগ্রাম করছে। গবেষণার সহ-লেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন জানান, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই এল নিনোর প্রভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকি এখনই শেষ হচ্ছে না; বরং চরম আবহাওয়ার এই প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত ব্যাপকভাবে অনুভূত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যে অঞ্চলগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র, সেখানে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক। অন্যদিকে উন্নত ও ধনী দেশগুলোতে পর্যাপ্ত শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), সুপেয় পানির সুব্যবস্থা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকায় তারা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার আনুমানিক প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুহারে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই সংক্রান্ত বিস্তর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়কালের সম্ভাব্য মৃত্যুর হার তুলনা করে এই চরম ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বের করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জলবায়ুজনিত এই তাপমাত্রার প্রধান ধকল যাবে গ্লোবাল সাউথের ওপর। বিশেষ করে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক ‘সাহেল অঞ্চল’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে; যেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে যৌথভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০; ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য বেশ কিছু তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ প্রদান করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে তাপদাহের কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু, বিভিন্ন স্থানে শীতলীকরণ কেন্দ্র ও বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালগুলোর জরুরি সক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়স্ক ও শারীরিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা। পাশাপাশি চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির আগেই যেন সরকারগুলো প্রশাসনিকভাবে জরুরি অর্থ ছাড় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের’ (Forecast-based Financing) আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

প্রতিবেদনটির বিষয়ে মতামত দিতে গিয়ে ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি জানান, এই গবেষণাটি কোনো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চ্যালেঞ্জ।

প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র এল নিনোর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তপ্ত হয়ে থাকা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যুক্ত হয়ে তাপমাত্রার এই ঝুঁকিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বছরের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম তাপদাহের দিন তৈরি করবে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, বর্তমানের এই চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধি মূলত আজ থেকে ২০ বছর পর পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হবে, তারই একটি পূর্বাভাস দিচ্ছে; যা এখনই কার্যকর নীতি নির্ধারণ ও হাজার হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার একটি বড় সুযোগ।