Dhaka ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চীনে সীমাবদ্ধ মি টু আন্দোলন: প্রকাশ্য তৎপরতা কমে ব্যক্তিগত পরিসরে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

চীনে যৌন হয়রানি ও নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার ‘মি টু’ আন্দোলনের ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য আলোচনা ও প্রচারণার মাধ্যমে যে আন্দোলন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল, এখন তা অনেকটাই ব্যক্তিগত ও গোপন পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অনলাইন সেন্সরশিপ এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতার কারণে নারীবাদী কর্মীরা এখন নতুন কৌশলে কাজ করছেন।

চীনের মি টু আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ সাংবাদিক সোফিয়া হুয়াং শুয়েচিন সম্প্রতি পাঁচ বছর কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর তিনি এমন একটি পরিবর্তিত পরিবেশে ফিরেছেন, যেখানে তার কারাবন্দি থাকার সময় আন্দোলনের ধরন অনেকটাই বদলে গেছে।

বেইজিংয়ের একসময়কার সক্রিয় মি টু কর্মী জেসমিন এখন নারীবাদী কর্মকাণ্ড আয়োজন করেন শিল্প বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে। এসব আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে প্রচার না করে পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগের সেই সময় এখন কল্পনা করাও কঠিন, যখন একজন যৌন হয়রানির শিকার নারী প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা জানালে তা নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক আলোচনা শুরু হতে পারত।

চীনের নারীবাদী আন্দোলন এখন ক্রমেই ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। আন্দোলনের কর্মীরা একে প্রজন্মগত বিচ্ছিন্নতা হিসেবেও দেখছেন। যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মি টু আন্দোলনের প্রভাব চীনেও পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মি টু এবং এর চীনা ভাষার বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে কর্মীরা অভিযোগ করছেন।

চীনা নারীবাদী গবেষক ইভা লিউয়ের মতে, নতুন প্রজন্মের অনেক নারীবাদী আগের আন্দোলন সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তার মতে, অনলাইনে সেন্সরশিপের কারণে আগের সংগ্রামের তথ্যও অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনা নারীবাদীরা সেন্সরশিপ এড়াতে নতুন নতুন শব্দ ও প্রকাশভঙ্গি ব্যবহার করছেন। তবে এসব নতুন শব্দও দ্রুত সেন্সরশিপের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বেইজিংয়ের জেসমিন আরও জানান, নারীবাদ বা এলজিবিটি বিষয়কে সরাসরি সামনে রেখে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা চীনে কঠিন। তাই অনেক সময় অনুষ্ঠানকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ কোনো বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরে অনুষ্ঠানের ভেতরে নারী অধিকার বা সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চীনে সীমাবদ্ধ মি টু আন্দোলন: প্রকাশ্য তৎপরতা কমে ব্যক্তিগত পরিসরে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনে যৌন হয়রানি ও নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার ‘মি টু’ আন্দোলনের ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য আলোচনা ও প্রচারণার মাধ্যমে যে আন্দোলন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল, এখন তা অনেকটাই ব্যক্তিগত ও গোপন পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অনলাইন সেন্সরশিপ এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতার কারণে নারীবাদী কর্মীরা এখন নতুন কৌশলে কাজ করছেন।

চীনের মি টু আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ সাংবাদিক সোফিয়া হুয়াং শুয়েচিন সম্প্রতি পাঁচ বছর কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর তিনি এমন একটি পরিবর্তিত পরিবেশে ফিরেছেন, যেখানে তার কারাবন্দি থাকার সময় আন্দোলনের ধরন অনেকটাই বদলে গেছে।

বেইজিংয়ের একসময়কার সক্রিয় মি টু কর্মী জেসমিন এখন নারীবাদী কর্মকাণ্ড আয়োজন করেন শিল্প বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে। এসব আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে প্রচার না করে পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগের সেই সময় এখন কল্পনা করাও কঠিন, যখন একজন যৌন হয়রানির শিকার নারী প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা জানালে তা নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক আলোচনা শুরু হতে পারত।

চীনের নারীবাদী আন্দোলন এখন ক্রমেই ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। আন্দোলনের কর্মীরা একে প্রজন্মগত বিচ্ছিন্নতা হিসেবেও দেখছেন। যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মি টু আন্দোলনের প্রভাব চীনেও পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মি টু এবং এর চীনা ভাষার বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে কর্মীরা অভিযোগ করছেন।

চীনা নারীবাদী গবেষক ইভা লিউয়ের মতে, নতুন প্রজন্মের অনেক নারীবাদী আগের আন্দোলন সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তার মতে, অনলাইনে সেন্সরশিপের কারণে আগের সংগ্রামের তথ্যও অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনা নারীবাদীরা সেন্সরশিপ এড়াতে নতুন নতুন শব্দ ও প্রকাশভঙ্গি ব্যবহার করছেন। তবে এসব নতুন শব্দও দ্রুত সেন্সরশিপের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বেইজিংয়ের জেসমিন আরও জানান, নারীবাদ বা এলজিবিটি বিষয়কে সরাসরি সামনে রেখে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা চীনে কঠিন। তাই অনেক সময় অনুষ্ঠানকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ কোনো বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরে অনুষ্ঠানের ভেতরে নারী অধিকার বা সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।