কক্সবাজারের রামু উপজেলায় একটি ড্রেন বা নালার পানির নিচে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিশাল পরিমাণের তিন লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। নজিরবিহীন এই মাদকবিরোধী অভিযানে খালেদা বেগম (৪০) নামের এক চিহ্নিত নারী মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীর দুই ছেলেসহ অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে এলিট বাহিনীটি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসআরবি-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুকের স্বাক্ষরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাঞ্চল্যকর এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত গোপন ও সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত দক্ষিণ মৌলভীরকাটা এলাকার কেচোবুনিয়াছড়া স্থানে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় জেবর মল্লিকের কৃষি জমিতে পাইকারি মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে একদল মাদক কারবারি অবস্থান করছে—এমন খবরের ভিত্তিতে এসআরবি-১৫ এর সিপিএসসি, কক্সবাজারের একটি আভিযানিক দল দ্রুত সেখানে পৌঁছায়।
অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে উপস্থিত মাদক কারবারিরা তড়িঘড়ি করে পালানোর চেষ্টা চালায়। তবে ধাওয়া করে খালেদা বেগম নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন আভিযানিক দলের সদস্যরা। পরবর্তীতে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও সরাসরি দেখানো স্থান অনুযায়ী, কৃষি জমির পাশে থাকা একটি বাঁশের সাঁকোসংলগ্ন নালার কাদা ও পানির নিচে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই নিখুঁত পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় লুকানো ৩ লাখ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে মাদক কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত ১টি অ্যান্ড্রেয়েড ও ১টি ফিচার (বাটন) মোবাইল হ্যান্ডসেট আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
এসআরবি-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, আটককৃত খালেদা বেগম রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মৌলভীরকাটা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবা এনে তা বিভিন্ন অঞ্চলে পাচারের মূল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত। এই অপরাধ চক্রে জড়িত খালেদা বেগমের দুই ছেলেসহ অন্য সহযোগীরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের সুনির্দিষ্ট নাম-ঠিকানা শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি, জব্দ করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও মোবাইল ফোন পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তা।


























