অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একসময় সিরিজে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পরও প্রোটিয়ারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বসেরার মুকুট নিজেদের করে নিয়েছে।
কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে পরাজিত করে স্বাগতিকেরা। ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের মূল কারিগর ছিলেন স্পিনার সাইমন হারমার, যিনি মাত্র ১৬ রান খরচায় ৬ উইকেট তুলে নেন। ম্যাচে তার মোট শিকার ১০ উইকেট। এছাড়া কাগিসো রাবাদা ৩টি উইকেট লাভ করেন।
এই জয়ের সুবাদে ২০১৬ সালের পর প্রথমবার আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান ফিরে পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। নতুন তালিকায় তাদের রেটিং পয়েন্ট ১২৪। ১২২ রেটিং নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর রয়েছে নিউজিল্যান্ড (১০৬), ভারত (১০৫) ও ইংল্যান্ড (১০২)। বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ, রেটিং ৭৭।
সিরিজের শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১০০ রানের লিড পায় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসেও একসময় চাপে পড়লেও রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডারের শতকে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। তাদের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ দিনে রাবাদার আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর হারমারের স্পিনে একে একে ভেঙে পড়ে সফরকারী দলের ব্যাটিং লাইনআপ। এই ম্যাচে রাবাদা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই সিরিজ জয় কেবল র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার গল্প নয়; বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রেও তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২৫-২৭ চক্রের পয়েন্ট তালিকায় দলটি এখন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, আর অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে তৃতীয় স্থানে।

























