মামলার আরজি প্রস্তুতের সময় আইনজীবীর করা পেশাগত ভুল বা ত্রুটির খেসারত কোনোভাবেই বিচারপ্রার্থী মক্কেলকে দেওয়া যায় না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, আইনজীবীর গাফিলতি বা ভুলের কারণে কোনো সাধারণ বাদীকে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা আইনি ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। ঢাকার ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি ফার্স্ট আপিল মঞ্জুর করে অধস্তন আদালতের দেওয়া পূর্বেকার খারিজাদেশ বাতিল এবং মামলাটি পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৮ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ঢাকার মোহাম্মদ আসিফ ১৯৮৯ সালে নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনে কারখানা স্থাপন করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে পরবর্তীতে সিটি সার্ভে খতিয়ানে জমিটি বিবাদীদের নামে ভুলভাবে রেকর্ডভুক্ত হলে এবং স্থানীয় তহশিলদার খাজনা নেওয়া বন্ধ করলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০১৭ সালে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলাটি পরিচালিত হলেও বাদীর নিযুক্ত আইনজীবী আরজিতে আরএস ও সিটি সার্ভের ভুলের বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। আইনজীবীর এই ভুল উপস্থাপনের কারণে নিম্ন আদালত ২০১৭ সালের ১৫ জুন মামলাটি খারিজ করে দেন, যার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন মোহাম্মদ আসিফ।
হাইকোর্ট সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে জানান, আরজি তৈরিতে আইনজীবীর ভুল ছিল এবং এতে বাদীর নিজস্ব কোনো দায় বা ভূমিকা ছিল না। ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে আরজি সংশোধন ও প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দিয়ে মামলাটি নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির বিচারকাজ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


























