Dhaka ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে বিশ্বজুড়ে যে ৪ বড় পরিবর্তন আসবে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি শিবিরের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মেলানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক সংঘাতের ঝুঁকি এবং বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানি সংকটের যে মেঘ জমেছিল, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হলে প্রধানত চারটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে:

১. জ্বালানি তেলের বাজার ও সরবরাহ স্থিতিশীলতা: নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছিল, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল। নেতানিয়াহুর বিদায় ঘটলে এবং তুলনামূলক মধ্যপন্থি কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি কমবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা কমে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বস্তি ফিরতে পারে।

২. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্বের অবসান: নেতানিয়াহুর আমলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছিল। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট বা অন্য কোনো নেতা ক্ষমতায় এলে হোয়াইট হাউজ ও তেল আবিবের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া কূটনৈতিক দূরত্ব বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনা আবার গতি পাবে।

৩. ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলন: গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় নেতানিয়াহু প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছিলেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা মিত্ররা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটে নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছিল। নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে উগ্র কট্টরপন্থীদের প্রভাবমুক্ত একটি প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে বিশ্বজুড়ে যে ৪ বড় পরিবর্তন আসবে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি শিবিরের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মেলানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক সংঘাতের ঝুঁকি এবং বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানি সংকটের যে মেঘ জমেছিল, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হলে প্রধানত চারটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে:

১. জ্বালানি তেলের বাজার ও সরবরাহ স্থিতিশীলতা: নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছিল, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল। নেতানিয়াহুর বিদায় ঘটলে এবং তুলনামূলক মধ্যপন্থি কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি কমবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা কমে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বস্তি ফিরতে পারে।

২. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্বের অবসান: নেতানিয়াহুর আমলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছিল। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট বা অন্য কোনো নেতা ক্ষমতায় এলে হোয়াইট হাউজ ও তেল আবিবের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া কূটনৈতিক দূরত্ব বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনা আবার গতি পাবে।

৩. ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলন: গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় নেতানিয়াহু প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছিলেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা মিত্ররা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটে নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছিল। নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে উগ্র কট্টরপন্থীদের প্রভাবমুক্ত একটি প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।