মধ্যপ্রাচ্যের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে মারাত্মকভাবে আহত এবং জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় শিশুদের জরুরি চিকিৎসা ও সুচিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফুটবল সেনসেশন হামজা চৌধুরী। দাতব্য ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সর্বমোট ১ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রা বিনিময়ে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ অর্থের আর্থিক মান প্রায় দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিশেষ দাতব্য অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদানের তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি গণমাধ্যম ও ভক্তদের জানান শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই প্রতিভাবান বাংলাদেশি মিডফিল্ডার।
নিজের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্টে এই মহতী ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন হামজা। যারা এই মহৎ কাজে মুক্তহস্তে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন এবং সরাসরি আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে, এই পুরো মানবিক উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করার নেপথ্যে মুসলিম ক্রীড়া দাতব্য সংস্থা ‘নুজুম স্পোর্টস’-এর অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন হামজা। তিনি জানান, পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে সংস্থাটির নিবেদিতপ্রাণ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে গেছেন।
সংগৃহীত এই সমস্ত অর্থ সরাসরি গাজার যুদ্ধাহত শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘চিলড্রেন নট নাম্বার্স’-এর তহবিলে হস্তান্তর করা হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবরুদ্ধ উপত্যকার দুস্থ ও অসুস্থ শিশুদের অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং তাদের নিরাপদ পুনর্বাসনের কাজ করে থাকে এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি।
সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে হামজা আরও উল্লেখ করেন, গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলে বেঁচে থাকার আকুতি জানানো বহু শিশুর জন্য একমাত্র শেষ আশা হলো বর্তমান নরককুণ্ড থেকে তাদের নিরাপদে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা। তাই সংগৃহীত এই আর্থিক তহবিল থেকে মূলত জটিল ও মারাত্মক রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অবরুদ্ধ উপত্যকার বাইরে নিরাপদ কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয়ভার নির্বাহ করা হবে।
তবে গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট ও বর্বরোচিত পরিস্থিতির তুলনায় নিজের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত সামান্য বলেই মনে করেন বিনয়ী ফুটবলার হামজা। ফিলিস্তিনের চরম নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার দিনে তাদের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববাসীর আরও অনেক বেশি কিছু করার অবকাশ রয়েছে বলে তিনি জোরালো মন্তব্য করেন। তবে যেকোনো ছোট বা বড় মানবিক উদ্যোগও যুদ্ধপীড়িত এসব মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে বলে তাঁর সুদৃঢ় বিশ্বাস। বার্তার একেবারে শেষাংশে ফিলিস্তিনের অবহেলিত মানুষের কষ্ট চিরতরে লাঘব হোক এবং বিশ্বর ওই জনপদে চিরশান্তি ও স্থিতি ফিরে আসুক—এই কামনা করে সকলের কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন হামজা চৌধুরী।

























