প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে অনুভূত হওয়া এই শক্তিশালী ভূকম্পনে দুই দেশের একাধিক প্রধান শহর ও প্রদেশ কেঁপে ওঠে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আকস্মিক এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় আকারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের স্থানীয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, রোববার রাতের ভূকম্পনে দেশটির রাজধানী শহর কাবুল, সীমান্তবর্তী নানগারহার প্রদেশ এবং এর আশপাশের আরও কয়েকটি নিকটবর্তী অঞ্চলে স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর রেকর্ড করা হয়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি)-এর তথ্যমতে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ভূখণ্ডে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে প্রকৃত মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভূকম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ৮ হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করলেও, পরবর্তীতে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ তথ্য পর্যালোচনা করে তা সংশোধনপূর্বক ৫ দশমিক ২ নির্ধারণ করে। বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল বা উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভের প্রায় ১১০ কিলোমিটার গভীরতায়।
অন্যদের মধ্যে, পাকিস্তানের স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে এই জোরালো ভূকম্পন অনুভূত হয়। কম্পন শুরু হতেই অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট উদ্ধার ও জরুরি পরিচালনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রাথমিক তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা জীবনহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।























