মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের আকস্মিক পদত্যাগ এবং গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বহুল আলোচিত ঘটনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, সমাজের প্রধান ব্যাধি মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের নেওয়া পদক্ষেপ ও সদিচ্ছাকে নেতিবাচক (নেগেটিভ) বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে অস্ত্র বহন কিংবা প্রদর্শন করা সিভিল আচরণের পরিপন্থী এবং এটি অনভিপ্রেত একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত ‘সাবেক সাথি-সদস্য সম্মেলন-২০২৬’ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদানকালে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অস্ত্র হাতে নেওয়া এবং পরবর্তীতে পদত্যাগ করার প্রসঙ্গটি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজকে তছনছ করে দেওয়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নিয়ত হয়তো ইশরাকের ভালো ছিল। কিন্তু সমাজ তো সব ধরনের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত; কুচক্রী ও খারাপ নিয়তের মানুষেরা ভবিষ্যতে এই প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শনকে একটি ভুল নজির ও ‘রেফারেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। নাগরিক ও প্রশাসনিক আচরণের জায়গা থেকে এই ঘটনাটিকে মূল্যায়ন করলে আপত্তির স্থানটি কেবল সেখানেই। অন্যথায় মাদক নির্মূলে তাঁর সুনির্দিষ্ট কাজের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা আপত্তি করার মতো কিছু নেই।
অভিযানস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল ভূমিকা ও পুলিশের অবস্থান সম্পর্কিত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির সংক্ষিপ্ত ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই, আমার পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি ইশরাক নিজেই স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় পুলিশি দল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে নিজ হাতে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অংশ নেওয়ায় ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনার মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। পরবর্তীতে বিতর্ক এড়াতে এবং সরকার ও দলকে স্বস্তিতে রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এ বিষয়ে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন যে, এটি পুরোপুরি শাসকদল বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং প্রধানমন্ত্রী অনুচিত বিচ্যুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ইশরাকের পদত্যাগ নিশ্চিত করেছেন।


























