সরকার কর্তৃক বিরোধী দলের যুক্তিসঙ্গত সকল আন্দোলন ও মতামতকে অন্যায্যভাবে উপেক্ষা করার মাধ্যমে দেশে পরিকল্পিত অরাজকতা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ সৃষ্টি করে সরকার বস্তুত ইচ্ছাকৃতভাবেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন ও দেশে ফেরার রাজপথ উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপনকালে গোলাম পরওয়ার এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারের দৃশ্যমান দুর্নীতি ও সর্বস্তরে অন্যায্য দলীয়করণের বিরুদ্ধে কথা বললেই অহেতুক রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও রাষ্ট্রবিরোধিতার তকমা দেওয়া হচ্ছে। একদলীয় চরম কর্তৃত্ববাদ কায়েম করার মধ্য দিয়ে সরকারই মূলত বিলুপ্ত ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্দোলনকে অন্যায়ভাবে ‘জুলাই-বিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অনিয়ম ঢাকতে বিরোধী দলের ওপর ‘জুজুর ভয়’ দেখিয়ে সমস্ত দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সরকারের ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ দেড় দশকে আওয়ামী লীগকে দেখে ফ্যাসিবাদের প্রকৃত রূপ চিনেছে। অথচ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ তা মাত্র সাত মাসের ব্যবধানেই বিস্মৃত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের মতামত ও গণরায় উপেক্ষা করা, নির্বিচারে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্ধ দলীয় লোক বসানোই হলো ফ্যাসিবাদের আসল রূপরেখা।
বিএনপির বর্তমান কার্যক্রমকে অতীত সরকারের সাথে তুলনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে বাধা দিত, বর্তমান শাসকদলও ঠিক একই পথ অনুসরণ করছে। লাখো মানুষের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আমির হামজাকে ওয়াজ মাহফিল করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ক্ষমতার দাপটে তাঁর মাহফিলের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, সারা দেশের ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভেঙে দিয়ে নিজস্ব দলীয় লোক বসানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের ওপর অনির্বাচিত ব্যক্তিদের বসিয়ে ‘দারোগাগিরি’ চালোনো হচ্ছে, যা যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারকে স্বৈরাচারের দিকে নিয়ে যায়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


























