সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী পদ্মা ও মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার করার অপরাধে হাতেনাতে আটক ২৪ জন জেলের মধ্যে ২২ জন জেলেকে কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অভিযান পরিচালনাকালে জেলেদের বেআইনি হেফাজতে থাকা প্রায় ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, মাছ শিকারের ৬টি নৌকা এবং ৫ কেজি সদ্য ধৃত মা ইলিশ জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে সংক্রান্ত সব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ২২ জন জেলে হলেন— রিফাত (২৫), রাসেল খান (২৬), দেলোয়ার হোসেন (৬০), সুজন গাজী (৩০), ইদ্রিস আলী (৩৫), নজরুল বেপারী (২৮), মনির মিজি (২৮), শহীদ গাজী (২৯), দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৬০), জাহাঙ্গীর বেপারী (৩৫), সেলিম ফকির (৩০), মো. নজরুল (৩০), কামাল বেপারী (৩৪), লিটন বেগ (৪৫), মাইনুদ্দিন (৪৭), নয়ন শরীফ (১৮), নিজাম প্রধানিয়া (৩৬), মো. রাসেল (৩০), মনির বেপারী (২৮), মোহাম্মদ হোসেন (১৯), রাসেল গাজী (২৫) এবং মো. ইকবাল (২২)। সাজাপ্রাপ্ত এসব অসাধু জেলেদের নিজ বাড়ি চাঁদপুর এবং পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে।
সফল এই বিশেষ অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তথ্য প্রদান করে জানান, জেলা ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট সার্বিক তত্ত্বাবধানে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন সুরক্ষার লক্ষ্যে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে শুরু করে গভীর রাত ১০টা পর্যন্ত টানা অভিযান চালানো হয়। মেঘনা নদীর সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল, দোকানঘর ও বহরিয়া এলাকা সমূহে এই বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালে সরাসরি নদীর চিরাচর পয়েন্ট থেকে ১৮ জন এবং দোকানঘর এলাকা থেকে আরও ৬ জন জেলেকে অবৈধভাবে জাল ফেলার সময় হাতেনাতে আটক করে টহল দল।
পরবর্তীতে রোববার মধ্যরাত ১২টায় কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চৌকস সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, মো. রহমত উল্লাহ এবং তানভীর রাব্বীর যৌথ পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত কর্তৃক শুনাহানি শেষে আটককৃত ২২ জন প্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে ১২ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে নগদ জরিমানা অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে আটক অপর দুই জেলে বয়সভেদে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা রেখে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তথ্য যোগ করে আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কারেন্টজাল আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত ও বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া উদ্ধার হওয়া মা ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং আটক ৬টি কাঠের নৌকা বর্তমানে কোস্টগার্ডের হেফাজতে রাখা রয়েছে।


























