রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষা, সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে একযোগে ১১টি পৃথক ও সফল অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস হাউস, ঢাকা। গত ১১ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের খাঁটি স্বর্ণ ও বৈচিত্র্যময় স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও বাণিজ্যিক পণ্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাগেজ সুবিধার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আনা বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব শুল্ক-কর হিসেবে আদায় করা হয়েছে।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কাস্টমস হাউসের পরিচালিত সংমিশ্রিত অভিযানে ব্যাগেজ থেকে মোট ৫৮৯ লিটার বিদেশি মদ, ২ হাজার ৯২৩ কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট, ৩৫০টি ই-সিগারেট বা ভেপ, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও আমদানি নিষিদ্ধ প্রায় ২৮৬ কেজি ত্বক ফর্সাকারী কেমিক্যাল ক্রিম, ৯২টি আধুনিক মুঠোফোন এবং ৩১৫ কেজি অনুমোদনহীন বিদেশি ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। বাজেয়াপ্তকৃত এসব সুনির্দিষ্ট সামগ্রীর পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যাগেজ থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল বাণিজ্যিক পণ্যও কাস্টমস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরে আগমনকারী সাধারণ যাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যাগেজ সুবিধার আইনি আওতার বাইরে গিয়ে আনা অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্যের বিপরীতে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা বকেয়া শুল্ক-কর হিসেবে আদায় করতে সক্ষম হয়েছে কাস্টমস হাউস, ঢাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে জানানো হয়, দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সাধারণ ভোক্তার অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং সরকারি শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার যেকোনো চক্রান্ত রুখে দিতে বিমানবন্দরে এই ধরণের বিশেষ চিরুনি অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


























