সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হেনস্তা এবং বিক্ষোভের মুখে পড়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে আক্রমণাত্মক পরিবেশ তৈরির ঘটনা তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে। কোনো নাগরিকের জন্যই প্রবাসে ভ্রমণ বা মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের ঘটনা কেবল একটি স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গাড়িতে ডিম নিক্ষেপ এবং নিউ ইয়র্ক, প্যারিস ও ইতালিতেও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্টজনেরা অশালীন আচরণ ও বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছেন। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশের জন্য গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও শারীরিক হামলা, বাধা সৃষ্টি বা অশালীন স্লোগান দেওয়া কখনোই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিচয় হতে পারে না। রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনগুলো জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে বিদেশি মাটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদে জড়ানো থেকে প্রবাসীদের বিরত থাকা জরুরি। একই সঙ্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ আইনি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।


























