অবৈধ মানবপাচারকারী চক্রের চটকদার লোভে পড়ে লিবিয়ার উপকূলভাগ থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপ মহাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিপদে পড়া ৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার দেশ মিশরের পোর্টসাইদ এলাকায় বন্দি থাকা এসব বাংলাদেশিদের বিগত ৪, ৬ ও ১৩ অক্টোবর তিন পৃথক দফায় দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে তাঁদের সবাইকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো।
মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখা জানিয়েছে, পাচারকারীদের মিথ্যা আশ্বাসে প্রলুব্ধ হয়ে লিবিয়ার তবরুক অঞ্চল থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ইউরোপের সীমানায় প্রবেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন এই নাগরিকেরা। মাঝদরিয়ায় তাঁরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়লে সামুদ্রিক উদ্ধারকারী দল তাঁদের উদ্ধার করে মিশরের পোর্টসাইদ বন্দিশালায় নিয়ে আসে।
উদ্ধার করা মোট ৫৮ জন ভুক্তভোগীর মধ্য থেকে ৫৫ জনকে ‘কিংস্টন’ নামের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজ এবং অবশিষ্ট তিনজনকে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ নামের ভিন্ন আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত নাগরিকদের শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া, তাঁদের বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার বিবরণ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সেবা দেওয়ার জন্য গত ৩ অক্টোবর পোর্টসাইদ জেলখানা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিকরা।
কূটনৈতিক মিশনের বিশেষ প্রচেষ্টায় মিশরীয় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আর্থিক সহায়তায় বিমানের টিকিট সংগ্রহপূর্বক তাঁদের স্বদেশে পাঠানো হয়। প্রথম পর্যায়ে ৪ অক্টোবর ৬ জন, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬ অক্টোবর ১১ জন এবং সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর অবশিষ্ট ৪১ জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। এর মাধ্যমে বিপদে পড়া ৫৮ জন প্রবাসীর সবাই দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক করে বলা হয়, উত্তাল ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে বেআইনিভাবে ইউরোপে অনুপ্রবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় সম্পর্কে দেশের নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি। একই সাথে প্রলোভন দেখানো মানবপাচারকারী ও অবৈধ চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিপজ্জনক সামুদ্রিক রুট ও ইউরোপ যাত্রা
উন্নত জীবন ও অধিক উপার্জনের আশায় অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতি বছর অসংখ্য বাংলাদেশি নিজের মূল্যবান জীবন বাজি রেখে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার মতো বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেন। সমুদ্রের করাল গ্রাস, অপরিসর ও ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার, খাদ্য-পানির তীব্র ঘাটতি এবং পাচারকারীদের নৃশংস প্রবঞ্চনার কারণে প্রায়শই এই ধরনের যাত্রায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রলোভনপ্রসূত ও অবৈধ পথ পরিহার করে আইনসম্মত অভিবাসন ব্যবস্থা অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। এর মাধ্যমেই কেবল পাচারকারী সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এবং প্রতারণা এড়ানো সম্ভব।


























