Dhaka ০২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারি নজরদারি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শাকসবজির ভেতরে ইতোমধ্যে সহনীয় মাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে সীসা, ক্যাডমিয়ামসহ নানা ক্ষতিকর ভারী ধাতু শনাক্ত হয়েছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজশাহী অঞ্চলের বাণিজ্যিক উপায়ে উৎপাদিত পেয়ারার নমুনার ভেতরও মাত্রাতিরিক্ত ভারী ধাতুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। মানুষের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকার অত্যন্ত পরিচিত ও কাছাকাছি থাকা এই ফলটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক পরিমাণে ভারী ধাতু পাওয়ার পরিক্রমায় গবেষক মহল থেকে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাটি এবং পানির দূষণ রোধে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও গভীর ও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন তারা।

গত আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা জার্নাল ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ ‘কম্পেরেটিভ অ্যাসেসমেন্ট অব হেভি মেটাল কন্টামিনেশন অ্যান্ড নন-কার্সিনোজেনিক অ্যান্ড কার্সেনোজেনিক হেলথ রিস্কস ইন গোয়াভা ফ্রম হোম গার্ডেন অ্যান্ড কমার্শিয়াল ফার্মস ইন রাজশাহী ডিভিশন’ শীর্ষক একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

উক্ত গবেষণা দলের মূল দায়িত্বে থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাজশাহী বিভাগের অধীনে থাকা আটটি জেলার ১০টি আলাদা অঞ্চলের মোট ২০টি ভিন্ন স্থান থেকে পেয়ারার নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে বসতভিটার দেশীয় পেয়ারার তুলনায় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা পেয়ারার নমুনার মধ্যেই তুলনামূলক উচ্চমাত্রায় কিছু ভারী ধাতু ধরা পড়েছে।

তার ভাষ্যমতে, “এই গবেষণার ফলাফল কিন্তু বাংলাদেশের সব অঞ্চলের পেয়ারার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে না। আমাদের সংগ্রহকৃত নমুনা এবং গবেষণার সামগ্রিক পরিধি কেবল নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল ও স্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই গবেষণার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করা নয়, বরং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় জনসমক্ষে নিয়ে আসা। ফলাফল পরিষ্কার করে দেখিয়েছে যে পেয়ারার মতো ফলে আজকাল ভারী ধাতুর দূষণ চলে আসছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয়। কারণ আমাদের দেশে পেয়ারা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ব্যাপকভাবে খাওয়া একটি ফল। ফলমূল ও আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এখনই এই সংকট নিরসনে কাজ শুরু করা অপরিহার্য।”

সাখাওয়াত হোসেন কৃষিজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফলমূলে ভারী ধাতুর এই দূষণমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

পেয়ারায় যা পাওয়া গেছে: পেয়ারা নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয় ২০২৫ সালে। গবেষক দলে সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন শারমিন আশা, মো. আব্দুল হালিম, নিজাম উদ্দিন, তামিনা আক্তার, মো. শোভন আল ফুয়াদ এবং লিসা খানম। এই গবেষণা দলটির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতা কিংবা পিএইচডি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।

নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এবং জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় সিসা (লেড), ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক এবং কপার বা তামার উপস্থিতি যাচাই করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফল থেকে বেরিয়ে আসে যে, প্রতি কেজি পেয়ারায় সীসার আদর্শ বা নিরাপদ মাত্রা দশমিক ১ মিলিগ্রাম হলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে ২ দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি কেজিতে ১ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও নমুনায় পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৮৪ মিলিগ্রাম।

ঠিক তেমনিভাবে ক্যাডমিয়ামের গ্রহণযোগ্য মাত্রা যেখানে দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম நிர்ணயিত, সেখানে পেয়ারার ভেতর মিলেছে ১ দশমিক ৮৮ মিলিগ্রাম। আর তামা পাওয়া গেছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ মিলিগ্রাম হারে, অথচ এর সহনীয় মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম।

পরীক্ষীত মোট ৬০টি পেয়ারার নমুনার মধ্যে ৩০ শতাংশ নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক, ৭০ শতাংশ নমুনায় গ্রহণযোগ্যতার তুলনায় বেশি সীসা এবং শতকরা ৯০ ভাগ নমুনায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

সবজিতে দূষণ শিল্পাঞ্চলে বেশি: অন্যদিকে শাকসবজির দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে ‘হেভি মেটাল কনটামিনেশন ইন ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড হিউম্যান হেলথ রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক পৃথক আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের দুই খ্যাতনামা শিক্ষক—অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া।

ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ছয়টি ভিন্ন জেলা থেকে আলু, বেগুন, ঢেঁড়স, টমেটো, লাল শাক, পটল, বাঁধাকপি, শসা ও মটরশুঁটিসহ মোট নয় জাতের শাকসবজি সংগ্রহ করেন তারা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্রিয় সহযোগিতায় ২০২৪ সালে পরিচালিত ওই গবেষণার ফলাফল এখন নিবন্ধ আকারে প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, “নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, savor (সাভার), ময়মনসিংহ ও শেরপুর—এই এলাকাগুলোর মধ্যে যে স্থানগুলোতে শিল্পকারখানা ও শিল্পাঞ্চল বেশি, সেখানকার সংগৃহীত শাকসবজির মধ্যে হেভি মেটালের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে। শিল্পভিত্তিক এলাকাগুলোতে মাটি ও পরিবেশে ভারী ধাতুর নির্গমন বেশি ঘটে বিধায় স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শাকসবজিতেও এর উচ্চমাত্রা পাওয়া যায়।”

উল্লেখ্য, লাল শাক, বেগুন, ঢেঁড়স এবং টমেটোর ক্ষেত্রে ক্যাডমিয়ামের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা প্রতি কেজিতে ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। তবে গবেষণা তথ্য বলছে, লাল শাকের ভেতরেই সর্বাধিক পরিমাণে ক্যাডমিয়ামের মতো মারাত্মক ভারী ধাতু জমা হয়েছে। লাল শাকে ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে ৭০৪ দশমিক ৩২ মাইক্রোগ্রাম পরিমাণে। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুনে ২৭৫ দশমিক ৬৬ মাইক্রোগ্রাম, ঢেঁড়সে ৩৪৯ মাইক্রোগ্রাম এবং টমেটোতে ১৯০ মাইক্রোগ্রামের অধিক ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে।

শাকসবজিতে ভারী ধাতুর মাত্রা নামিয়ে আনার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে গোলাম কিবরিয়া বলেন, “সবচেয়ে বড় এবং প্রাথমিক করণীয় হলো এগুলো যাতে কোনোভাবেই মাটিতে প্রবেশ করতে না পারে সেটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি এগুলোকে খাদ্যতালিকা থেকে সম্পূর্ণ বর্জন করারও কোনো বিকল্প পথ নেই। কারণ উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবেই মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান বা নিউট্রিয়েন্ট গ্রহণ করে থাকে। এই পুষ্টি উপাদানের সঙ্গেই ক্ষতিকর মেটালগুলো উদ্ভিদের ভেতরে প্রবেশ করে জমা হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সীসা কিংবা ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুগুলো মূলত মাটিতেই অবস্থান করে এবং এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়, যা পুরোপুরি ঠেকানো কঠিন। শিল্পকারখানার বর্জ্য পদার্থ, পুরনো অটোরিকশার ব্যাটারির অবশিষ্টাংশ এবং রাসায়নিক সারের মাধ্যমে এগুলি মাটিতে মিশতে পারে। মাটি বা সেচের পানি দূষিত হলে উদ্ভিদের কান্ড বা ফলের সঙ্গে তা মিশে যাওয়া অবধারিত।”

মাঠপর্যায়ের এই দূষণ রোধে সামগ্রিক ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন খাদ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের দৈনন্দিন খাবারে সহনীয় মাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে এমন সব ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলো এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। ঘরে ও বাইরে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের উদ্যোগ থাকতে হবে। বিশেষ করে শাকসবজি ও ফলমূলে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ক্ষতিকর রং মেশানোর মতো অপতৎপরতা কঠোরহাতে দমন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার সামগ্রিক বিষয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।”

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী বলেন, “বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের প্রায় এমন কোনো খাদ্যদ্রব্য খুঁজে পাওয়া যাবে না যার মধ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান, ভারী ধাতু কিংবা মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান নেই। প্রায় সব ধরনের খাবারের ভেতরই কোনো না কোনো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি মিলছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বা ফুড সেফটি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে কার্যকর কাজ হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো সেটি যথাযথভাবে হয় না।”

গবেষক সাখাওয়াত হোসেন জানান, পেয়ারার ৬০টি নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রায় ৯০ শতাংশ নমুনার মধ্যে ক্যাডমিয়াম এবং ৭০ শতাংশে সীসার মাত্রা অনুমোদিত সীমাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে গেছে। মানবদেহে ভারী ধাতু প্রবেশ করলে তা প্রাকৃতিকভাবে সহজে শরীর থেকে বের হতে চায় না, বরং হাড় ও কোষের মধ্যে ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে, কারণ ভারী ধাতুর মূল বৈশিষ্ট্য হলো তা কোষের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে এবং ডিএনএর স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তন করে ফেলে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিংবা পেয়ারা খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন কেবল সচেতনতা, নিবিড় গবেষণা এবং নিয়মিত মনিটরিং।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ: নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা জোরালো করার বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খাদ্যের মান পরীক্ষার মাধ্যমে যে তথ্যগুলো প্রকাশ পাচ্ছে, তা আমাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেয়।

অন্যদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেছেন যে, দেশের মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি প্রধান খাদ্য চালের মধ্যেও হেভি মেটালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব ক্ষতিকর উপাদানের উৎস খুঁজে বের করতে এবং তা রোধে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন গবেষণা ও বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারি নজরদারি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শাকসবজির ভেতরে ইতোমধ্যে সহনীয় মাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে সীসা, ক্যাডমিয়ামসহ নানা ক্ষতিকর ভারী ধাতু শনাক্ত হয়েছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজশাহী অঞ্চলের বাণিজ্যিক উপায়ে উৎপাদিত পেয়ারার নমুনার ভেতরও মাত্রাতিরিক্ত ভারী ধাতুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। মানুষের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকার অত্যন্ত পরিচিত ও কাছাকাছি থাকা এই ফলটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক পরিমাণে ভারী ধাতু পাওয়ার পরিক্রমায় গবেষক মহল থেকে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাটি এবং পানির দূষণ রোধে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও গভীর ও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন তারা।

গত আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা জার্নাল ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ ‘কম্পেরেটিভ অ্যাসেসমেন্ট অব হেভি মেটাল কন্টামিনেশন অ্যান্ড নন-কার্সিনোজেনিক অ্যান্ড কার্সেনোজেনিক হেলথ রিস্কস ইন গোয়াভা ফ্রম হোম গার্ডেন অ্যান্ড কমার্শিয়াল ফার্মস ইন রাজশাহী ডিভিশন’ শীর্ষক একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

উক্ত গবেষণা দলের মূল দায়িত্বে থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাজশাহী বিভাগের অধীনে থাকা আটটি জেলার ১০টি আলাদা অঞ্চলের মোট ২০টি ভিন্ন স্থান থেকে পেয়ারার নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে বসতভিটার দেশীয় পেয়ারার তুলনায় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা পেয়ারার নমুনার মধ্যেই তুলনামূলক উচ্চমাত্রায় কিছু ভারী ধাতু ধরা পড়েছে।

তার ভাষ্যমতে, “এই গবেষণার ফলাফল কিন্তু বাংলাদেশের সব অঞ্চলের পেয়ারার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে না। আমাদের সংগ্রহকৃত নমুনা এবং গবেষণার সামগ্রিক পরিধি কেবল নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল ও স্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই গবেষণার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করা নয়, বরং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় জনসমক্ষে নিয়ে আসা। ফলাফল পরিষ্কার করে দেখিয়েছে যে পেয়ারার মতো ফলে আজকাল ভারী ধাতুর দূষণ চলে আসছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয়। কারণ আমাদের দেশে পেয়ারা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ব্যাপকভাবে খাওয়া একটি ফল। ফলমূল ও আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এখনই এই সংকট নিরসনে কাজ শুরু করা অপরিহার্য।”

সাখাওয়াত হোসেন কৃষিজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফলমূলে ভারী ধাতুর এই দূষণমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

পেয়ারায় যা পাওয়া গেছে: পেয়ারা নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয় ২০২৫ সালে। গবেষক দলে সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন শারমিন আশা, মো. আব্দুল হালিম, নিজাম উদ্দিন, তামিনা আক্তার, মো. শোভন আল ফুয়াদ এবং লিসা খানম। এই গবেষণা দলটির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতা কিংবা পিএইচডি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।

নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এবং জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় সিসা (লেড), ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক এবং কপার বা তামার উপস্থিতি যাচাই করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফল থেকে বেরিয়ে আসে যে, প্রতি কেজি পেয়ারায় সীসার আদর্শ বা নিরাপদ মাত্রা দশমিক ১ মিলিগ্রাম হলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে ২ দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি কেজিতে ১ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও নমুনায় পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৮৪ মিলিগ্রাম।

ঠিক তেমনিভাবে ক্যাডমিয়ামের গ্রহণযোগ্য মাত্রা যেখানে দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম நிர்ணயিত, সেখানে পেয়ারার ভেতর মিলেছে ১ দশমিক ৮৮ মিলিগ্রাম। আর তামা পাওয়া গেছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ মিলিগ্রাম হারে, অথচ এর সহনীয় মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম।

পরীক্ষীত মোট ৬০টি পেয়ারার নমুনার মধ্যে ৩০ শতাংশ নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক, ৭০ শতাংশ নমুনায় গ্রহণযোগ্যতার তুলনায় বেশি সীসা এবং শতকরা ৯০ ভাগ নমুনায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

সবজিতে দূষণ শিল্পাঞ্চলে বেশি: অন্যদিকে শাকসবজির দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে ‘হেভি মেটাল কনটামিনেশন ইন ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড হিউম্যান হেলথ রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক পৃথক আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের দুই খ্যাতনামা শিক্ষক—অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া।

ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ছয়টি ভিন্ন জেলা থেকে আলু, বেগুন, ঢেঁড়স, টমেটো, লাল শাক, পটল, বাঁধাকপি, শসা ও মটরশুঁটিসহ মোট নয় জাতের শাকসবজি সংগ্রহ করেন তারা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্রিয় সহযোগিতায় ২০২৪ সালে পরিচালিত ওই গবেষণার ফলাফল এখন নিবন্ধ আকারে প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, “নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, savor (সাভার), ময়মনসিংহ ও শেরপুর—এই এলাকাগুলোর মধ্যে যে স্থানগুলোতে শিল্পকারখানা ও শিল্পাঞ্চল বেশি, সেখানকার সংগৃহীত শাকসবজির মধ্যে হেভি মেটালের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে। শিল্পভিত্তিক এলাকাগুলোতে মাটি ও পরিবেশে ভারী ধাতুর নির্গমন বেশি ঘটে বিধায় স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শাকসবজিতেও এর উচ্চমাত্রা পাওয়া যায়।”

উল্লেখ্য, লাল শাক, বেগুন, ঢেঁড়স এবং টমেটোর ক্ষেত্রে ক্যাডমিয়ামের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা প্রতি কেজিতে ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। তবে গবেষণা তথ্য বলছে, লাল শাকের ভেতরেই সর্বাধিক পরিমাণে ক্যাডমিয়ামের মতো মারাত্মক ভারী ধাতু জমা হয়েছে। লাল শাকে ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে ৭০৪ দশমিক ৩২ মাইক্রোগ্রাম পরিমাণে। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুনে ২৭৫ দশমিক ৬৬ মাইক্রোগ্রাম, ঢেঁড়সে ৩৪৯ মাইক্রোগ্রাম এবং টমেটোতে ১৯০ মাইক্রোগ্রামের অধিক ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে।

শাকসবজিতে ভারী ধাতুর মাত্রা নামিয়ে আনার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে গোলাম কিবরিয়া বলেন, “সবচেয়ে বড় এবং প্রাথমিক করণীয় হলো এগুলো যাতে কোনোভাবেই মাটিতে প্রবেশ করতে না পারে সেটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি এগুলোকে খাদ্যতালিকা থেকে সম্পূর্ণ বর্জন করারও কোনো বিকল্প পথ নেই। কারণ উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবেই মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান বা নিউট্রিয়েন্ট গ্রহণ করে থাকে। এই পুষ্টি উপাদানের সঙ্গেই ক্ষতিকর মেটালগুলো উদ্ভিদের ভেতরে প্রবেশ করে জমা হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সীসা কিংবা ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুগুলো মূলত মাটিতেই অবস্থান করে এবং এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়, যা পুরোপুরি ঠেকানো কঠিন। শিল্পকারখানার বর্জ্য পদার্থ, পুরনো অটোরিকশার ব্যাটারির অবশিষ্টাংশ এবং রাসায়নিক সারের মাধ্যমে এগুলি মাটিতে মিশতে পারে। মাটি বা সেচের পানি দূষিত হলে উদ্ভিদের কান্ড বা ফলের সঙ্গে তা মিশে যাওয়া অবধারিত।”

মাঠপর্যায়ের এই দূষণ রোধে সামগ্রিক ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন খাদ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের দৈনন্দিন খাবারে সহনীয় মাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে এমন সব ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলো এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। ঘরে ও বাইরে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের উদ্যোগ থাকতে হবে। বিশেষ করে শাকসবজি ও ফলমূলে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ক্ষতিকর রং মেশানোর মতো অপতৎপরতা কঠোরহাতে দমন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার সামগ্রিক বিষয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।”

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী বলেন, “বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের প্রায় এমন কোনো খাদ্যদ্রব্য খুঁজে পাওয়া যাবে না যার মধ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান, ভারী ধাতু কিংবা মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান নেই। প্রায় সব ধরনের খাবারের ভেতরই কোনো না কোনো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি মিলছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বা ফুড সেফটি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে কার্যকর কাজ হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো সেটি যথাযথভাবে হয় না।”

গবেষক সাখাওয়াত হোসেন জানান, পেয়ারার ৬০টি নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রায় ৯০ শতাংশ নমুনার মধ্যে ক্যাডমিয়াম এবং ৭০ শতাংশে সীসার মাত্রা অনুমোদিত সীমাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে গেছে। মানবদেহে ভারী ধাতু প্রবেশ করলে তা প্রাকৃতিকভাবে সহজে শরীর থেকে বের হতে চায় না, বরং হাড় ও কোষের মধ্যে ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে, কারণ ভারী ধাতুর মূল বৈশিষ্ট্য হলো তা কোষের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে এবং ডিএনএর স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তন করে ফেলে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিংবা পেয়ারা খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন কেবল সচেতনতা, নিবিড় গবেষণা এবং নিয়মিত মনিটরিং।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ: নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা জোরালো করার বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খাদ্যের মান পরীক্ষার মাধ্যমে যে তথ্যগুলো প্রকাশ পাচ্ছে, তা আমাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেয়।

অন্যদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেছেন যে, দেশের মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি প্রধান খাদ্য চালের মধ্যেও হেভি মেটালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব ক্ষতিকর উপাদানের উৎস খুঁজে বের করতে এবং তা রোধে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন গবেষণা ও বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।