এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথোপকথনের আপত্তিকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার পদস্থ পদধারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উত্থাপিত বিষয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটির সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধানে চারিত্রিক স্খলনজনিত গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার প্রচার সম্পাদক মাওলানা মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কারের এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলার সর্বস্তরের দায়িত্বশীল জনশক্তি, শুভানুধ্যায়ী ও সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাকর্মীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে ভোলা জেলা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত চারিত্রিক স্খলন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাকে অবিলম্বে দলীয় ও সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পূর্ণাঙ্গ অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার বর্তমান জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা সালাউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বা সেক্রেটারির সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পদচ্যুত মাওলানা আব্বাস উদ্দিন নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় একটি পরিচিত কওমি মাদরাসার পরিচালনা পদের দায়িত্বেও নিয়োজিত রয়েছেন। অতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে এক নারীর সঙ্গে অনলাইন ভিডিও কলে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর অবস্থায় কথা বলতে দেখা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝোড় ওঠে।
উদ্ভূত এই বিতর্কিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) কেন্দ্রীয় নির্দেশে প্রথমে মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের পদ স্থগিত করে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়। উক্ত তদন্ত কমিটিতে ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিনকে প্রধান আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির নিবিড় অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে স্থায়ীভাবে দলীয় দায়িত্ব থেকে অপসারণ বা বহিষ্কার করা হয়।
অপরদিকে, বহিষ্কারের বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পদচ্যুত মাওলানা আব্বাস উদ্দিন পুরো ঘটনা অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘ছড়িয়ে পড়া ভিডিও কলে থাকা নারী মূলত আমার নিজের বিবাহিত স্ত্রী এবং সংগৃহীত ভিডিওটি কয়েক মাস আগের। ধারণকৃত ভিডিওটি যে মোবাইল সেটে সংরক্ষিত ছিল, সেটি সম্প্রতি হাতছানি দিয়ে চুরি হয়ে যায়। একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চুরিকৃত ভিডিওটি হস্তগত করে আমাকে সামাজিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে চরম হেয়প্রতিপন্ন করার ঘৃণ্য চক্রান্ত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।’ তবে উদ্ভূত এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলে অস অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় তিনি আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছেন।


























