করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্র্যান্ড কিংবা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নির্বাহীদের মতামত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘এক্সিকিউটিভ গোস্টরাইটিং’। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সময়ের সীমাবদ্ধতার সুযোগে তাঁদের হয়ে লিংকডইন পোস্ট, সভার বক্তৃতা, মতামতধর্মী নিবন্ধ বা প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য লিখে দেওয়ার এই প্রচ্ছন্ন পেশায় তৈরি হয়েছে উচ্চ আয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা।
গোস্টরাইটিংয়ের কাজের মূল অগ্রাধিকার হলো—যাঁকে কেন্দ্র করে লেখা হচ্ছে, তাঁর নিজস্ব ভাষাশৈলী, চিন্তাধারা ও ব্যক্তিত্বকে অবিকল বজায় রাখা। কেবল সুন্দর বাক্য গঠন নয়, বরং সংশ্লিষ্ট নির্বাহীর শিল্পখাত ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করে লেখাটিকে কৃত্রিমতামুক্ত রাখা এ পেশার প্রধান চ্যালেঞ্জ। কাজের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং বাজার ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য ও কৌশলগত গোপনীয়তা রক্ষা করা একজন গোস্টরাইটারের অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সক্রিয় উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। ফলে প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, স্টার্টআপ, উন্নয়ন সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানিতে নিবন্ধিত পিআর এজেন্সি বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দক্ষ লেখকদের চাহিদা বাড়ছে। কেবল সাধারণ শব্দ সাজানো নয়, বরং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও কৌশলগত দিক যুক্ত থাকায় সাধারণ কনটেন্ট রাইটিংয়ের তুলনায় এ খাতের পারিশ্রমিক ও মূল্যায়ন যথেষ্ট বেশি।
সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ, ইংরেজি, সাহিত্য বা ব্যবসা-সংক্রান্ত বিষয়ের শিক্ষার্থীরা এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির চেয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণার মানসিকতা, লেখার মান এবং নমুনা লেখার মাধ্যমে তৈরি করা শক্ত পোর্টফোলিওই এ পেশায় প্রবেশের মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।


























