Dhaka ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন বনাম চীনা এআই: আয়ে ১০ গুণ এগিয়ে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৮:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার ও বিকাশ ঘটলেও আয়ের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠান—ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের চেয়ে বহুগুণ পিছিয়ে রয়েছে চীনের পুরো এআই খাত। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রোডিয়াম গ্রুপ’-এর একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, চীনের সমস্ত এআই মডেলের সম্মিলিত বার্ষিক আয় (এআরআর) মার্কিন এই দুই টেক জায়ান্টের অর্জিত মোট রাজস্বের মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আয়ের এই বিশাল ফারাক প্রযুক্তি খাতে চীনা এআই স্টার্টআপগুলোর উচ্চ মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশন নিয়ে বড় ধরনের সংশয় ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
​সাম্প্রতিক মাসিক উপাত্তকে ১২ দিয়ে গুণ করে প্রস্তুত করা বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয় বা ‘অ্যানুয়াল রিকারিং রেভিনিউ’ (এআরআর) মানদণ্ড অনুযায়ী, চীনা স্টার্টআপগুলোর মধ্যে ডিপসিকের বার্ষিক আয় সবচেয়ে কম, প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

এছাড়া অন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মিনিম্যাক্স’ ৮০ কোটি ডলার এবং ‘মুনশট’ ১০০ কোটি ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে ‘জেড ডটএআই’ (Z.ai) তাদের এআরআর ১৮০ কোটি ডলার বলে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি চীনের বৃহৎ টেক জায়ান্ট বাইটড্যান্স ৪০০ কোটি ডলার ও আলিবাবা ২৪০ কোটি ডলার আয় করলেও তা মার্কিন ওপেনএআইয়ের চার হাজার কোটি ডলার কিংবা অ্যানথ্রপিকের সাড়ে ছয় হাজার কোটি ডলার অর্জনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।


​রোডিয়ামের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই নিম্ন রাজস্বের বিপরীতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্যায়ন অস্বাভাবিক রকমের বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, আয়ের তুলনায় মুনশটের মূল্যায়ন ৫০ গুণ এবং ডিপসিকের ক্ষেত্রে তা রেকর্ড ১৬৩ গুণ বেশি ধরা হয়েছে। এর বিপরীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের মূল্যায়নের অনুপাত ৩৪ গুণ এবং অ্যানথ্রপিকের ক্ষেত্রে তা ২১ গুণ, যা তুলনামূলক অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। শেয়ারবাজারে তালিকার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিক যুক্তরাষ্ট্রে আইপিও (আইপিও) আবেদনের পরিকল্পনা করছে এবং ওপেনএআই তাদের আইপিও কিছুটা পিছিয়েছে। অন্যদিকে, মুনশট হংকং শেয়ারবাজারে গোপনে আইপিও আবেদন জমা দিয়েছে এবং ডিপসিকও প্রাথমিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
​কৌশলগত কাঠামোর দিক থেকেও মার্কিন ও চীনা মডেলগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি অ্যালগরিদমগুলো ‘ক্লোজড সোর্স’ বা সংরক্ষিত হওয়ায় প্রতি কাজের (টাস্ক) জন্য ব্যবহারকারীর খরচ বেশি হয়। অন্যদিকে চীনের মডেলগুলো মূলত ‘ওপেন সোর্স’, যা পর্যাপ্ত হার্ডওয়্যার সুবিধা থাকলে যেকোনো স্বাধীন ডেভেলপার বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ওপেন সোর্স মডেলের কারণে থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্ম থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে চীনা ল্যাবগুলো।


​রোডিয়াম গ্রুপের অংশীদার লোগান রাইট ও গবেষক এন্ডেভিয়ার তিয়ানের মতে, আয়ের এই বিশাল ঘাটতির কারণে চীনে ফ্রন্টিয়ার এআই ল্যাবগুলোর পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা বা টেকসইভাবে বড় হওয়া বেশ কঠিন হবে। তারা জানান, চীনা এআই চিপ ও সার্ভারে মূলধনী বিনিয়োগের ৬০ শতাংশের বেশি অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আসলেও গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী ল্যাবগুলোতে সরাসরি সরকারি অর্থের সরবরাহ এখনো সীমিত। ফলে নতুন ইক্যুইটি ও শেয়ারবাজারের ওপর তাদের অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।
​রাজস্বের সীমাবদ্ধতার মাঝেই অবশ্য জেড ডটএআই চলতি বছরের শেষে তাদের এআরআর পূর্বনির্ধারিত ২৪০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা রয়েই গেছে; সম্প্রতি মার্কিন প্রযুক্তি নির্বাহীরা এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করায় দেশটির পুঁজিবাজারে পতন ঘটেছিল, অন্যদিকে হংকং ও চীনে তালিকাভুক্ত জেড ডটএআই ও মিনিম্যাক্সের শেয়ার দর চরম ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন বনাম চীনা এআই: আয়ে ১০ গুণ এগিয়ে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৮:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার ও বিকাশ ঘটলেও আয়ের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠান—ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের চেয়ে বহুগুণ পিছিয়ে রয়েছে চীনের পুরো এআই খাত। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রোডিয়াম গ্রুপ’-এর একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, চীনের সমস্ত এআই মডেলের সম্মিলিত বার্ষিক আয় (এআরআর) মার্কিন এই দুই টেক জায়ান্টের অর্জিত মোট রাজস্বের মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আয়ের এই বিশাল ফারাক প্রযুক্তি খাতে চীনা এআই স্টার্টআপগুলোর উচ্চ মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশন নিয়ে বড় ধরনের সংশয় ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
​সাম্প্রতিক মাসিক উপাত্তকে ১২ দিয়ে গুণ করে প্রস্তুত করা বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয় বা ‘অ্যানুয়াল রিকারিং রেভিনিউ’ (এআরআর) মানদণ্ড অনুযায়ী, চীনা স্টার্টআপগুলোর মধ্যে ডিপসিকের বার্ষিক আয় সবচেয়ে কম, প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

এছাড়া অন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মিনিম্যাক্স’ ৮০ কোটি ডলার এবং ‘মুনশট’ ১০০ কোটি ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে ‘জেড ডটএআই’ (Z.ai) তাদের এআরআর ১৮০ কোটি ডলার বলে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি চীনের বৃহৎ টেক জায়ান্ট বাইটড্যান্স ৪০০ কোটি ডলার ও আলিবাবা ২৪০ কোটি ডলার আয় করলেও তা মার্কিন ওপেনএআইয়ের চার হাজার কোটি ডলার কিংবা অ্যানথ্রপিকের সাড়ে ছয় হাজার কোটি ডলার অর্জনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।


​রোডিয়ামের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই নিম্ন রাজস্বের বিপরীতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্যায়ন অস্বাভাবিক রকমের বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, আয়ের তুলনায় মুনশটের মূল্যায়ন ৫০ গুণ এবং ডিপসিকের ক্ষেত্রে তা রেকর্ড ১৬৩ গুণ বেশি ধরা হয়েছে। এর বিপরীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের মূল্যায়নের অনুপাত ৩৪ গুণ এবং অ্যানথ্রপিকের ক্ষেত্রে তা ২১ গুণ, যা তুলনামূলক অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। শেয়ারবাজারে তালিকার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিক যুক্তরাষ্ট্রে আইপিও (আইপিও) আবেদনের পরিকল্পনা করছে এবং ওপেনএআই তাদের আইপিও কিছুটা পিছিয়েছে। অন্যদিকে, মুনশট হংকং শেয়ারবাজারে গোপনে আইপিও আবেদন জমা দিয়েছে এবং ডিপসিকও প্রাথমিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
​কৌশলগত কাঠামোর দিক থেকেও মার্কিন ও চীনা মডেলগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি অ্যালগরিদমগুলো ‘ক্লোজড সোর্স’ বা সংরক্ষিত হওয়ায় প্রতি কাজের (টাস্ক) জন্য ব্যবহারকারীর খরচ বেশি হয়। অন্যদিকে চীনের মডেলগুলো মূলত ‘ওপেন সোর্স’, যা পর্যাপ্ত হার্ডওয়্যার সুবিধা থাকলে যেকোনো স্বাধীন ডেভেলপার বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ওপেন সোর্স মডেলের কারণে থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্ম থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে চীনা ল্যাবগুলো।


​রোডিয়াম গ্রুপের অংশীদার লোগান রাইট ও গবেষক এন্ডেভিয়ার তিয়ানের মতে, আয়ের এই বিশাল ঘাটতির কারণে চীনে ফ্রন্টিয়ার এআই ল্যাবগুলোর পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা বা টেকসইভাবে বড় হওয়া বেশ কঠিন হবে। তারা জানান, চীনা এআই চিপ ও সার্ভারে মূলধনী বিনিয়োগের ৬০ শতাংশের বেশি অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আসলেও গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী ল্যাবগুলোতে সরাসরি সরকারি অর্থের সরবরাহ এখনো সীমিত। ফলে নতুন ইক্যুইটি ও শেয়ারবাজারের ওপর তাদের অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।
​রাজস্বের সীমাবদ্ধতার মাঝেই অবশ্য জেড ডটএআই চলতি বছরের শেষে তাদের এআরআর পূর্বনির্ধারিত ২৪০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা রয়েই গেছে; সম্প্রতি মার্কিন প্রযুক্তি নির্বাহীরা এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করায় দেশটির পুঁজিবাজারে পতন ঘটেছিল, অন্যদিকে হংকং ও চীনে তালিকাভুক্ত জেড ডটএআই ও মিনিম্যাক্সের শেয়ার দর চরম ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।