নানা সমালোচনা, আবাসন সংকট আর পরিবহন ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই অবশেষে পর্দা নামল আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর। রোববার এক জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৬ দিনব্যাপী এই মেগা ক্রীড়া আসরের সমাপ্তি ঘোষণা করেন অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি। ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই গেমসে ৫০টিরও বেশি বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে। তবে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের পাশাপাশি আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো আসর জুড়েই বিতর্ক পিছু ছাড়েনি。
পদক তালিকায় যথারীতি একক আধিপত্য বজায় রেখে টানা ১২বারের মতো শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। ১৬৯টি স্বর্ণ, ৮৯টি রৌপ্য ও ৮৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩৪১টি পদক জিতে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে তারা। স্বাগতিক জাপান ৮৩টি স্বর্ণ জিতে দ্বিতীয় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৩৯টি স্বর্ণ নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে। আসরের সেরা পুরুষ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন থাইল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী স্প্রিন্টার পুরিপোল বুনসন, যিনি ১০০ মিটারে ৯.৯০ সেকেন্ডের এশিয়ান গেমস রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জয় করেন। অন্যদিকে, চীনের মাত্র ১৩ বছর বয়সী সাঁতারু ইউ জিদি ৩টি স্বর্ণ জিতে ও দুটি নতুন রেকর্ড গড়ে সেরা নারী অ্যাথলেটের মুকুট ছিনিয়ে নেন।
পুরো গেমসজুড়ে অ্যাথলেটদের জন্য তৈরি হওয়া চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। অ্যাথলেটদের জন্য আলাদা ভিলেজ না বানিয়ে কনটেইনার হাট, ক্রুজ শিপ ও বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। থাকার জায়গার সংকট ও যাতায়াতের সীমাহীন দুর্ভোগের জন্য গেমস আয়োজন কমিটির সভাপতি হিদেআকি ওমুরা রোববারে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ওসিএ-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অ্যাথলেটরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সমাপনী দিনে ওসিএ-র পতাকা তুলে দেওয়া হয় পরবর্তী ২১তম এশিয়ান গেমসের আয়োজক শহর দোহার হাতে, যদিও গেমসের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

























