Dhaka ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সার সংকটের পেছনে ডিলার ও সিন্ডিকেটের কারসাজি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

লতি আমন মৌসুমে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও সরবরাহ থাকার পরেও চোরাচালানের কারণে কক্সবাজার জেলাজুড়ে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা সার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারছেন না, যার ফলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে সারের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় একটি চক্র সীমান্ত দিয়ে দেদারসে সার পাচার করছে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত মুদ্রার পরিবর্তে পণ্যের বিনিময় (বার্টার) পদ্ধতিতে মিয়ানমার থেকে সারের বিপরীতে ইয়াবা ও অস্ত্র চোরাচালানের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। গত জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন মাসে সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকা থেকে পাচারকালে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৮ কেজি সার জব্দ করা হয়েছে এবং শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মুখেও পাচারের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিরা মূলত সাধারণ বহনকারী বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে, কিছু অসাধু ডিলার ও স্থানীয় কার্ডধারী কৃষকদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়ম ও সংকট নিরসনে কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ডিলারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের ৭১টি ইউনিয়নে নতুন করে ডিলার নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত কার্যকর হলে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সার সংকটের পেছনে ডিলার ও সিন্ডিকেটের কারসাজি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

লতি আমন মৌসুমে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও সরবরাহ থাকার পরেও চোরাচালানের কারণে কক্সবাজার জেলাজুড়ে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা সার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারছেন না, যার ফলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে সারের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় একটি চক্র সীমান্ত দিয়ে দেদারসে সার পাচার করছে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত মুদ্রার পরিবর্তে পণ্যের বিনিময় (বার্টার) পদ্ধতিতে মিয়ানমার থেকে সারের বিপরীতে ইয়াবা ও অস্ত্র চোরাচালানের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। গত জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন মাসে সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকা থেকে পাচারকালে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৮ কেজি সার জব্দ করা হয়েছে এবং শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মুখেও পাচারের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিরা মূলত সাধারণ বহনকারী বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে, কিছু অসাধু ডিলার ও স্থানীয় কার্ডধারী কৃষকদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়ম ও সংকট নিরসনে কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ডিলারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের ৭১টি ইউনিয়নে নতুন করে ডিলার নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত কার্যকর হলে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।