Dhaka ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আখতারুজ্জামানের অবিলম্বে মুক্তি দাবি ডা. শফিকুর রহমানের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত “সাজানো” মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি ও প্রতিবাদ জানান।

ফেসবুক পোস্টে আমিরে জামায়াত লেখেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। সাজানো মামলা প্রত্যাহার করুন। তিনি কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ছিল বলেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি কেবল যাত্রী হয়রানি, প্রবাস থেকে ফেরত বাংলাদেশিদের প্রতি উপেক্ষা ও তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর ভাষা কী ছিল সেটা দেখেন। কিন্তু তিনি যে বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন, তার ভুক্তভোগী সাক্ষী বিমানবন্দরে উপস্থিত যাত্রীরা।” হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম, অসঙ্গতি ও যাত্রী হয়রানি চাপা দিতে যদি এই হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে তা এক বড় ধরনের ‘অশনি সংকেত’ উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, সাধারণ ভুক্তভোগী জনগণ এটি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নানা ভোগান্তির শিকার হন আখতারুজ্জামান। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে হট্টগোল ও দুই বিমান কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৩টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকির অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব। সেই মামলার জেরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওমরাহ পালন শেষে ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অন্যান্য সাধারণ যাত্রীর মতো আখতারুজ্জামানও চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, যাত্রী হয়রানি ও লাগেজের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত যাচাই করে তদন্তের কথা বলেছিল। অথচ সুষ্ঠু তদন্তের আগেই বৃহস্পতিবার রাতে তড়িঘড়ি করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে শুক্রবার আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অযৌক্তিক জিজ্ঞাসাবাদ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরি বা হারানো এবং নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম ভোগান্তির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত। উত্তরা জসিম উদ্দিন মোড় থেকে শুরু হয়ে বিমানবন্দর সড়কে গিয়ে শেষ হওয়া এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। মিছিলে মহানগর নেতারা অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে নাগরিক হয়রানির প্রতিবাদ করায় প্রশাসনিক প্রতিকার পাওয়ার বদলে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, অত্যন্ত ঠুনকো অজুহাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং তড়িঘড়ি করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সরকারের ভালো লক্ষণ নয়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আখতারুজ্জামানের অবিলম্বে মুক্তি দাবি ডা. শফিকুর রহমানের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত “সাজানো” মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি ও প্রতিবাদ জানান।

ফেসবুক পোস্টে আমিরে জামায়াত লেখেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। সাজানো মামলা প্রত্যাহার করুন। তিনি কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ছিল বলেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি কেবল যাত্রী হয়রানি, প্রবাস থেকে ফেরত বাংলাদেশিদের প্রতি উপেক্ষা ও তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর ভাষা কী ছিল সেটা দেখেন। কিন্তু তিনি যে বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন, তার ভুক্তভোগী সাক্ষী বিমানবন্দরে উপস্থিত যাত্রীরা।” হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম, অসঙ্গতি ও যাত্রী হয়রানি চাপা দিতে যদি এই হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে তা এক বড় ধরনের ‘অশনি সংকেত’ উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, সাধারণ ভুক্তভোগী জনগণ এটি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নানা ভোগান্তির শিকার হন আখতারুজ্জামান। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে হট্টগোল ও দুই বিমান কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৩টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকির অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব। সেই মামলার জেরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওমরাহ পালন শেষে ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অন্যান্য সাধারণ যাত্রীর মতো আখতারুজ্জামানও চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, যাত্রী হয়রানি ও লাগেজের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত যাচাই করে তদন্তের কথা বলেছিল। অথচ সুষ্ঠু তদন্তের আগেই বৃহস্পতিবার রাতে তড়িঘড়ি করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে শুক্রবার আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অযৌক্তিক জিজ্ঞাসাবাদ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরি বা হারানো এবং নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম ভোগান্তির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত। উত্তরা জসিম উদ্দিন মোড় থেকে শুরু হয়ে বিমানবন্দর সড়কে গিয়ে শেষ হওয়া এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। মিছিলে মহানগর নেতারা অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে নাগরিক হয়রানির প্রতিবাদ করায় প্রশাসনিক প্রতিকার পাওয়ার বদলে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, অত্যন্ত ঠুনকো অজুহাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং তড়িঘড়ি করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সরকারের ভালো লক্ষণ নয়।