জাপানের নিশিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস পুরুষ ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদক অর্জনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০২ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ফলে ৬৩ রানের বড় হারের মুখে পড়ে কোনো পদক ছাড়াই খালি হাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশি বোলারদের দুর্দান্ত আক্রমণের মুখে পড়ে মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়ে লঙ্কানরা। বোলার মেহেদী হাসানের টানা আঘাতে দুই ওপেনার লাসিথ ক্রুসপুল্লে ও সিনেথ জয়াবর্ধনে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। এরপর আলিস আল ইসলামের স্পিনে নুয়ানিদু ফার্নান্দো আউট হওয়ার পাশাপাশি সোহান ডি লিভেরা রানআউটের শিকার হলে মাত্র ২১ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল দলটি।
তবে শুরুর সেই চাপ কাটিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরান রত্নায়েকে ও অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগে। রত্নায়েকে মাত্র ৩২ বলে ৬৫ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক আরাচ্চিগের সঙ্গে ৯৩ রানের এক কার্যকারী জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তিনি। বিপর্যয় সামলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের সংগ্রাহক রূপ পায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদী হাসান ১৯ রান খরচ করে ২টি উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই এক ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তামিম এবং দলের অধিনায়ক লিটন দাস। দলীয় মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। তবে হৃদয় ১১ এবং ইমন ২০ রান করে আউট হলে আশা ক্ষীণ হয়ে আসে।
পরবর্তী ব্যাটারদের ধারাবাহিক আসা-যাওয়ার মধ্যে শেষদিকে ইয়াসির আলী ও নাসুম আহমেদ দলের হাল ধরেন। দুজনই সমান ২৬ রান করে দলীয় ফিফটি প্লাস (৫২ রান) সংগ্রহ করে স্কোর একশ পার করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১০২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে আগের ম্যাচে ৪৫ রানে অলআউট হওয়া শ্রীলঙ্কাই ৬৩ রানের জয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় এবং বাংলাদেশ দলের ফিরতি যাত্রা নিশ্চিত হয় সম্পূর্ণ পদকশূন্যভাবে।

























