সবার জীবনেই সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য থাকে। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে কজনই বা সেই লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন? আর্থিক অস্বচ্ছলতা, নিরাপত্তাহীনতা, মানসিক চাপ এবং নানা সামাজিক সংকটের কাছে অনেকেই থমকে যান। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে তরুণীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ভাবনা তুলে ধরেছেন মুহিবুল হাসান রাফি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, একেকজনের স্বপ্ন একেক রকম হয়। কেউ শিক্ষক, কেউ আইনজীবী হতে চান, আবার কেউ সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু স্বপ্ন দেখা আর তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথটি সবসময় সমান হয় না। লক্ষ্য অর্জনে সবার আগে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে এগোতে হয়। বাস্তবতায় থাকে অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক দায়িত্ব, ব্যর্থতা এবং প্রতিযোগিতার মতো নানা চ্যালেঞ্জ। অনেকেই এসব বাধাকে ভয় পেয়ে লক্ষ্যচ্যুত হন। অথচ সফল মানুষদের জীবনী ঘাঁটলে দেখা যায়, ব্যর্থতাই তাদের সফলতার মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
লক্ষ্যপূরণের প্রথম শর্ত হলো নিজের ওপর অগাধ আত্মবিশ্বাস রাখা। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলে পথ চলতে চলতে অনেক সময় পরিকল্পনা বদল করতে হয়, নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হয় কিংবা কিছু স্বপ্নকে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জাঁকজমকপূর্ণ সাফল্য দেখে অনেকেই হীনম্মন্যতায় ভোগেন। অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে নিজের উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ প্রতিটি মানুষের জীবনপঞ্জি এবং সংগ্রামের ক্ষেত্র আলাদা। বাস্তবতাকে প্রতিপক্ষ না ভেবে পাথেয় হিসেবে ধরে এগিয়ে গেলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব।
এদিকে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের আরেক শিক্ষার্থী তার বক্তব্যে জানান, ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসাসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার ইচ্ছা ছিল তার। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সেই লক্ষ্যেই নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের এই নাছোড়বান্দা মনোভাবই প্রমাণ করে যে, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নারীরা এখন নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


























