একই দেশের মানচিত্রের ভেতর একপ্রান্তে রয়েছে আধুনিক হাসপাতাল, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ; অন্যদিকে আরেকটি প্রান্তে সামান্য চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্যও একজন মানুষকে পাড়ি দিতে হয় বহু দূরের পথ। কোথাও শিশুদের পড়াশোনার জন্য রয়েছে নানা উন্নত সুযোগ, আবার কোথাও কেবল একটি ভালো বই বা শিক্ষকের অনুপস্থিতিই একজন তরুণের সব স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যোগাযোগের দিক থেকে পৃথিবী যত সংকুচিত হয়েছে, মানুষের জীবনের সুযোগগুলো কি ঠিক ততটাই সমান হয়েছে?
বিশ্বায়ন আমাদের জীবনযাত্রাকে অভাবনীয়ভাবে বদলে দিয়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে এখন সীমানা পেরিয়ে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ছে জ্ঞান এবং ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রযুক্তি মানুষের সামনে উন্মুক্ত করেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। তবে সুযোগের দরজা উন্মুক্ত হওয়া আর সবার পক্ষে সেই দরজায় প্রবেশ করা—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কারণ, সমাজের প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রার সূচনা একই বিন্দু থেকে হয় না।
কেউ জন্মসূত্রে লাভ করে উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসা, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও আর্থিক নিরাপত্তা। পক্ষান্তরে, অন্য কাউকে বেড়ে উঠতে হয় এমন এক পরিবেশে, যেখানে কেবল প্রতিদিনের মৌলিক চাহিদা মেটানোই একটি কঠিন সংগ্রাম। ফলে মেধা ও সম্ভাবনার দিক থেকে কাছাকাছি হলেও দুই ব্যক্তির ভবিষ্যৎ কখনোই একই সমান্তরালে এগোয় না। আর এখানেই নিহিত রয়েছে সামাজিক বৈষম্যের মূল শিকড়।


























