ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ চার আসামির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করা হয়েছে। আপিল দায়ের করা অন্য তিন আসামি হলেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত উম্মে সুলতানা পপি (তুহিন), জাবেদ হোসেন (সাখাওয়াত হোসেন) এবং সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের। আসামিপক্ষের অন্যতম জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আপিল দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া, মৃত্যুকালীন জবানবন্দি (ডাইং ডিক্লারেশন) এবং পিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই বছরের ২৪ অক্টোবর নিম্ন আদালত ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। তবে চলতি বছরের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ তাদের রায়ে ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেন এবং ৬ জনের সাজা বহাল রাখেন। এর মধ্যে সিরাজ উদ-দৌলাসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। হাইকোর্ট তাদের রায়ে নিম্ন আদালতের রায়কে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা’ (মাইন্ডলেস অ্যান্ড রেসপনসিবল সেন্টেন্সিং) হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির আপিলে উত্থাপিত বিভিন্ন জোরালো যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সিরাজ উদ-দৌলা অন্য একটি মামলায় গত ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন, অথচ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ৬ এপ্রিল। কারাগারে বন্দি অবস্থায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলেও জেল কর্তৃপক্ষ এর দায় কেন নেবে না—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া নিহত নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে বোরকা পরিহিত চারজন ‘মেয়ে’-র কথা উল্লেখ থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পপি ছাড়া বাকি সবাই পুরুষ হওয়ায় এই বিষয়েও অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, মামলার চার্জ অনুযায়ী যে নারী দোকান থেকে বোরকা কিনে এনেছিলেন, সেই ‘মানি’কে হাইকোর্ট বেকসুর খালাস দিয়েছেন। মানি যদি খালাস পান, তবে বোরকার তত্ত্বটি আর টিকে থাকে না। পাশাপাশি, ১২ জন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মধ্যে হাইকোর্ট ৬ জনকে খালাস দেওয়ায় এবং পিবিআইয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মাধ্যমে এসব জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগ তুলে আইনজীবী দাবি করেন যে একই ঘটনার জবানবন্দি আংশিক বিশ্বাসযোগ্য না হলে বাকিগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এছাড়া ঘটনার দিন মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকা সত্ত্বেও পিবিআই সেই ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করেনি দাবি করে তিনি এটিকে হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এই নিখোঁজ সিসিটিভি ফুটেজ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। আপিল বিভাগ এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে আসামিদের প্রতি ন্যায়বিচার করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


























