Dhaka ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের শীর্ষ সুখী ভ্রমণ গন্তব্য পর্তুগালের রাজধানী লিসবন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

বুকরিট্রিটসের ‘হলিডে হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এ ৪৭টি শহরের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে শহরটি; স্বাস্থ্যকর খাবার, সবুজ প্রকৃতি ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশের কারণে এটি পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য।

পর্যাপ্ত সূর্যের আলো, স্বাস্থ্যকর খাবার, সবুজ প্রকৃতি আর হেঁটে বেড়ানোর চমৎকার সুযোগ—ছুটি কাটানোর জন্য একটি আদর্শ গন্তব্যে এর চেয়ে বেশি আর কী প্রয়োজন! শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর করে নিজেকে নতুন করে চাঙা করার জন্য এখন বিশ্বের সেরা গন্তব্য পর্তুগালের রাজধানী লিসবন। ভ্রমণবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম বুকরিট্রিটস-এর সাম্প্রতিক ‘হলিডে হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এ ৪৭টি জনপ্রিয় পর্যটন শহরকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে এই শহরটি। হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানী ড. নাটালি ড্যাটিলো-রাইয়ানের নির্দেশনায় পরিচালিত এই গবেষণায় মূলত দেখা হয়েছে, ভ্রমণের মাধ্যমে পর্যটকদের শরীর ও মনের সুস্থতা কতটা ভালোভাবে নিশ্চিত হয়।

গবেষণায় পাঁচটি মূল সূচকের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি শহরকে ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সূচকগুলো হলো—সূর্যের আলো, ঘুমের মান, স্বাস্থ্যকর খাবার, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং হাঁটার সুযোগ। এই উপাদানগুলো মানুষের শরীরে ডোপামিন ও সেরাটোনিনের মতো প্রাকৃতিক ‘হ্যাপিনেস হরমোন’ বা সুখের হরমোন নিঃসরণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

যে কারণে লিসবন সবার শীর্ষে:

  • পর্যাপ্ত সূর্যালোক: লিসবনে বছরে প্রায় ২ হাজার ৮২৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পাওয়া যায়। ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে থাকা শহুরে জীবনে এই পর্যাপ্ত রোদ পর্যটকদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং মেজাজ দ্রুত ভালো করে।
  • সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যকর খাবার: স্বাস্থ্যকর খাবারের দিক থেকে নিউইয়র্ক, প্যারিস বা টোকিওর মতো বিশ্বখ্যাত ফুড হাবগুলোকেও পেছনে ফেলেছে লিসবন। এখানকার প্রায় ১০ শতাংশ রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বাজেটের মধ্যেই তাজা সি-ফুড ও ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায় শহরটিতে।
  • হাঁটার উপযোগী পাহাড়ি পথ: শহরটি উঁচুনিচু পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত হলেও এর গলিগুলো বেশ নিবিড় ও সংযুক্ত। ত্যাগুস নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এখানকার পাহাড়ি পথে হেঁটে বেড়ানো মোটেও ক্লান্তিকর নয়, বরং চমৎকার এক শারীরিক ব্যায়াম।
  • সবুজ প্রকৃতি ও সৈকতের সান্নিধ্য: লিসবনে প্রতিটি বাসিন্দার বিপরীতে প্রায় ৪৯ বর্গমিটার সবুজ প্রান্তর রয়েছে, যা স্পেনের মাদ্রিদের চেয়ে চার গুণ বেশি। এছাড়া গণপরিবহন ব্যবহার করে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বেই কাসকাইস ও কোস্টা দা কাপারিকার মতো দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকতগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব।

তালিকায় থাকা অন্যান্য শহর: লিসবনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি। শহরটিতে মাথাপিছু ১২৬ বর্গমিটার বিস্তীর্ণ সবুজ পার্ক, শান্ত পরিবেশ ও নিরাপদ রাস্তা রয়েছে। ৩ হাজার ৯৩০ ঘণ্টা সূর্যালোক, শান্ত হ্রদ ও বিনোদন পার্কের কল্যাণে তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, তালিকার শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে ৮টিই ইউরোপের। চতুর্থ থেকে দশম স্থানে থাকা শহরগুলো হলো যথাক্রমে—এথেন্স (গ্রিস), এডিনবরা (স্কটল্যান্ড), মাদ্রিদ (স্পেন), ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া), বুদাপেস্ট (হাঙ্গেরি), অসলো (নরওয়ে) এবং ভিলনিয়াস (লিথুয়ানিয়া)। এছাড়া শীর্ষ ২০-এর তালিকায় কোপেনহেগেন, রোম, জুরিখ, সিডনি ও শিকাগোর মতো শহরগুলোও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।

সূত্র: ইউরো নিউজ, টাইম আউট

জনপ্রিয়

বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্য ও বাস্তবসম্মত সমাধান চায় মার্কিন জনগণ: বারাক ওবামা

বিশ্বের শীর্ষ সুখী ভ্রমণ গন্তব্য পর্তুগালের রাজধানী লিসবন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুকরিট্রিটসের ‘হলিডে হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এ ৪৭টি শহরের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে শহরটি; স্বাস্থ্যকর খাবার, সবুজ প্রকৃতি ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশের কারণে এটি পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য।

পর্যাপ্ত সূর্যের আলো, স্বাস্থ্যকর খাবার, সবুজ প্রকৃতি আর হেঁটে বেড়ানোর চমৎকার সুযোগ—ছুটি কাটানোর জন্য একটি আদর্শ গন্তব্যে এর চেয়ে বেশি আর কী প্রয়োজন! শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর করে নিজেকে নতুন করে চাঙা করার জন্য এখন বিশ্বের সেরা গন্তব্য পর্তুগালের রাজধানী লিসবন। ভ্রমণবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম বুকরিট্রিটস-এর সাম্প্রতিক ‘হলিডে হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এ ৪৭টি জনপ্রিয় পর্যটন শহরকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে এই শহরটি। হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানী ড. নাটালি ড্যাটিলো-রাইয়ানের নির্দেশনায় পরিচালিত এই গবেষণায় মূলত দেখা হয়েছে, ভ্রমণের মাধ্যমে পর্যটকদের শরীর ও মনের সুস্থতা কতটা ভালোভাবে নিশ্চিত হয়।

গবেষণায় পাঁচটি মূল সূচকের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি শহরকে ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সূচকগুলো হলো—সূর্যের আলো, ঘুমের মান, স্বাস্থ্যকর খাবার, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং হাঁটার সুযোগ। এই উপাদানগুলো মানুষের শরীরে ডোপামিন ও সেরাটোনিনের মতো প্রাকৃতিক ‘হ্যাপিনেস হরমোন’ বা সুখের হরমোন নিঃসরণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

যে কারণে লিসবন সবার শীর্ষে:

  • পর্যাপ্ত সূর্যালোক: লিসবনে বছরে প্রায় ২ হাজার ৮২৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পাওয়া যায়। ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে থাকা শহুরে জীবনে এই পর্যাপ্ত রোদ পর্যটকদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং মেজাজ দ্রুত ভালো করে।
  • সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যকর খাবার: স্বাস্থ্যকর খাবারের দিক থেকে নিউইয়র্ক, প্যারিস বা টোকিওর মতো বিশ্বখ্যাত ফুড হাবগুলোকেও পেছনে ফেলেছে লিসবন। এখানকার প্রায় ১০ শতাংশ রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বাজেটের মধ্যেই তাজা সি-ফুড ও ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায় শহরটিতে।
  • হাঁটার উপযোগী পাহাড়ি পথ: শহরটি উঁচুনিচু পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত হলেও এর গলিগুলো বেশ নিবিড় ও সংযুক্ত। ত্যাগুস নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এখানকার পাহাড়ি পথে হেঁটে বেড়ানো মোটেও ক্লান্তিকর নয়, বরং চমৎকার এক শারীরিক ব্যায়াম।
  • সবুজ প্রকৃতি ও সৈকতের সান্নিধ্য: লিসবনে প্রতিটি বাসিন্দার বিপরীতে প্রায় ৪৯ বর্গমিটার সবুজ প্রান্তর রয়েছে, যা স্পেনের মাদ্রিদের চেয়ে চার গুণ বেশি। এছাড়া গণপরিবহন ব্যবহার করে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বেই কাসকাইস ও কোস্টা দা কাপারিকার মতো দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকতগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব।

তালিকায় থাকা অন্যান্য শহর: লিসবনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি। শহরটিতে মাথাপিছু ১২৬ বর্গমিটার বিস্তীর্ণ সবুজ পার্ক, শান্ত পরিবেশ ও নিরাপদ রাস্তা রয়েছে। ৩ হাজার ৯৩০ ঘণ্টা সূর্যালোক, শান্ত হ্রদ ও বিনোদন পার্কের কল্যাণে তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, তালিকার শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে ৮টিই ইউরোপের। চতুর্থ থেকে দশম স্থানে থাকা শহরগুলো হলো যথাক্রমে—এথেন্স (গ্রিস), এডিনবরা (স্কটল্যান্ড), মাদ্রিদ (স্পেন), ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া), বুদাপেস্ট (হাঙ্গেরি), অসলো (নরওয়ে) এবং ভিলনিয়াস (লিথুয়ানিয়া)। এছাড়া শীর্ষ ২০-এর তালিকায় কোপেনহেগেন, রোম, জুরিখ, সিডনি ও শিকাগোর মতো শহরগুলোও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।

সূত্র: ইউরো নিউজ, টাইম আউট