নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মান্না বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তার অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন ‘অত্যাচারের উৎসব’ চলছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—কেউই আজ নিরাপদ নয়।
সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর ফলে একটি পরিবারের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মান্নার ভাষ্য, স্টুডিওটি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য মালিকের থাকলেও সেখানে কর্মরতদের জীবিকা কী হবে, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।
একইভাবে একটি বাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি জানান, সেই বাড়ির এক মা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি কাম্য ছিল কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিজ দলের এক নেতার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে জানানো হয় যে, পুলিশের কাছে কোনো মামলা নেই; মামলা হয়েছে আদালতে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন না হওয়ার পাশাপাশি জজকোর্টও কয়েক দিন বসেনি বলে অভিযোগ করেন মান্না।
এই পরিস্থিতিকে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার কপি না দেওয়া এবং আদালতের কার্যক্রম না চলার বিষয়টি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার চাপ কমছে না। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।


























