অন্যের প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা একটি সন্দেহজনক ও অবৈধ পণ্যচালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে উদঘাটিত এই চাঞ্চল্যকর চালানে তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো দেখতে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ এবং প্রিন্টেড পেপারের পরিবর্তে সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। কাস্টমস নথিপত্র অনুযায়ী, ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ নামক জাহাজে গত ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে চালানটি ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
নথি ঘেঁটে জানা গেছে, আমদানিকারক বা কনসাইনি হিসেবে নথিতে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত। তাঁর ধারণা, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও লাইসেন্সের তথ্য বেআইনিভাবে ব্যবহার করে এই চালানটি এনেছে এবং তিনি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। দুটি ভিন্ন হাউস বিল অব লেডিংয়ের (House B/L)-এর মাধ্যমে আমদানি দেখানো এই চালানে ঘোষণাবহির্ভূত ও নিষিদ্ধ পণ্য খালাসের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিচালিত কায়িক পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে সর্বমোট ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রথম হাউস বি/এল-এর আওতায় ঘোষিত ‘পান মসলা ও জর্দা’-র বিপরীতে ৪৭০ প্যাকেজে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে গাড়ো বাদামী, বাদামী, ধূসর ও সাদা রঙের পাউডারজাত পদার্থ রয়েছে যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। তবে এই পাউডারগুলোতে কোনো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত মাদক উপাদান রয়েছে কি না, তা ল্যাবরেটরি ও রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় হাউস বি/এল-এ ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে, যা ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি কঠোর তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























