পটুয়াখালীর লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারি স্কুলের বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের শেষ নেই। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা বিএনপি নেতাদের কাঁধে ভর করে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে একটি পক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রাখছেন এসব দোসরদের। ফলে এখনো স্কুলটিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর ভয়ভীতিসহ নানা ধরনের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।
জেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ আওয়ামী ঘরানার শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানেই কোণঠাসা করে রাখছেন বিএনপি ঘরানার শিক্ষকদের। এমনকি বিএনপির এসব নেতার কারণেই বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান ও সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অলীপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। এছাড়া সাবেক প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ২০১৯ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের নামে ২০ লাখের অধিক টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করে তা প্রায় পুরোটাই আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগের পর টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের প্রমাণ মেলায় গত ২৫ জুন ১০ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার শারমিন সুলতানা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই টাকা পরিশোধ করেননি অভিযুক্তরা। অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি অভিযুক্ত শিক্ষকদের পক্ষ নেওয়ায় টাকা পরিশোধ না করেই পার পেয়ে যাচ্ছেন ওই দুই শিক্ষক।


























