অনলাইন বই বিপণন প্ল্যাটফর্ম রকমারি ডটকম ও ওয়াফিলাইফ নিজেদের ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ থেকে আল-কায়েদা ও আইএস সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতাদের অনুবাদিত বই সরিয়ে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দিয়েছে এক শ্রেণির সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী। বিভিন্ন আপত্তিজনক মন্তব্য ও সাইবার প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে ওই গোষ্ঠীটি।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইমেলা এবং বিভিন্ন অনলাইন শপে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার নেতাদের বয়ান ও লেখা অনুবাদের বই বিক্রির চিত্র তুলে ধরে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সংবাদের জের ধরে ঢাকা স্ট্রিম কর্তৃপক্ষকে গালিগালাজ ও সাইবার হামলার হুমকি দেওয়া হলে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে রকমারি, ওয়াফিলাইফ ও বাতিঘরের মতো বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে চিহ্নিত বইগুলো পর্যায়ক্রমে অপসারণ শুরু করে।
বই সরিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষিতে কতিপয় চিকিৎসক ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ফেসবুকে রকমারি ও ওয়াফিলাইফ বয়কটের ডাক দিয়ে কটু মন্তব্য প্রকাশ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রকমারির হেড অব ব্র্যান্ড, মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস মাহমুদুল حسن সাদি জানান, প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর লেখকদের বিষয়গুলো রিভিউ করে নেতিবাচক তথ্য পাওয়ায় বইগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোন বই বিক্রি করা হবে বা হবে না—সেই স্বাধীনতার ওপর আক্রমণকে স্বাগত জানানো যায় না উল্লেখ করে তিনি জানান, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি রকমারি পরিচালনা করছে। অন্যদিকে ওয়াফিলাইফের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রুবায়েত আসিরুল বারী জানান, নির্দিষ্ট কোনো সরকারি নীতিমালা না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ওঠায় পর্যালোচনার স্বার্থেই বইগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছে।


























