রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নির্দেশদাতার কাছে ভিডিও পাঠাতে পারলে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। মূলত ভারতীয় নম্বর দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস কল বা মেসেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের লক্ষ্য ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গত এক সপ্তাহে যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় রায়হান উদ্দিন নামে এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে জানা যায় যে, পুরান ঢাকা ও সাইনবোর্ড এলাকার বিভিন্ন গোপন স্থানে ককটেল তৈরি করা হচ্ছে এবং মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এছাড়া বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনায় মাদকাসক্ত ও ভাসমান ব্যক্তিদেরও অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ডিবির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নির্দেশেই এই নাশকতার জাল ছড়ানো হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত ভারতীয় নম্বরগুলো যাচাই করে এই চক্রের সঙ্গে ওপার বাংলায় অবস্থানকারী নেতাদের যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভারতীয় সিম বা নম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করলেই ব্যবহারকারী নিশ্চিতভাবে ভারতে অবস্থান করছেন এমনটি ভাবার অবকাশ নেই, তবুও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাশকতার এই তদন্তে শুধু দেশীয় কর্মীরাই নয়, বরং সন্দেহভাজন এক ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গত সোমবার রাতে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যার পাসপোর্টের তথ্য ও জন্মতারিখে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা এই ব্যক্তি সাম্প্রতিক নাশকতাগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের জোরালো সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার নাশকতার সমন্বয়কারী হিসেবে মৎস্যজীবী লীগ নেতা মো. সবুজকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অর্থের লোভ বা পদ-পদবির লোভে যারা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ডিবির নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


























