Dhaka ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিডিও পাঠালেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে একটি চক্র

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:১৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নির্দেশদাতার কাছে ভিডিও পাঠাতে পারলে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। মূলত ভারতীয় নম্বর দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস কল বা মেসেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের লক্ষ্য ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গত এক সপ্তাহে যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় রায়হান উদ্দিন নামে এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে জানা যায় যে, পুরান ঢাকা ও সাইনবোর্ড এলাকার বিভিন্ন গোপন স্থানে ককটেল তৈরি করা হচ্ছে এবং মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এছাড়া বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনায় মাদকাসক্ত ও ভাসমান ব্যক্তিদেরও অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ডিবির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নির্দেশেই এই নাশকতার জাল ছড়ানো হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত ভারতীয় নম্বরগুলো যাচাই করে এই চক্রের সঙ্গে ওপার বাংলায় অবস্থানকারী নেতাদের যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভারতীয় সিম বা নম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করলেই ব্যবহারকারী নিশ্চিতভাবে ভারতে অবস্থান করছেন এমনটি ভাবার অবকাশ নেই, তবুও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাশকতার এই তদন্তে শুধু দেশীয় কর্মীরাই নয়, বরং সন্দেহভাজন এক ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গত সোমবার রাতে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যার পাসপোর্টের তথ্য ও জন্মতারিখে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা এই ব্যক্তি সাম্প্রতিক নাশকতাগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের জোরালো সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার নাশকতার সমন্বয়কারী হিসেবে মৎস্যজীবী লীগ নেতা মো. সবুজকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অর্থের লোভ বা পদ-পদবির লোভে যারা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ডিবির নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিডিও পাঠালেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে একটি চক্র

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:১৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নির্দেশদাতার কাছে ভিডিও পাঠাতে পারলে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। মূলত ভারতীয় নম্বর দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস কল বা মেসেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের লক্ষ্য ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গত এক সপ্তাহে যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় রায়হান উদ্দিন নামে এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে জানা যায় যে, পুরান ঢাকা ও সাইনবোর্ড এলাকার বিভিন্ন গোপন স্থানে ককটেল তৈরি করা হচ্ছে এবং মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এছাড়া বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনায় মাদকাসক্ত ও ভাসমান ব্যক্তিদেরও অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ডিবির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নির্দেশেই এই নাশকতার জাল ছড়ানো হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত ভারতীয় নম্বরগুলো যাচাই করে এই চক্রের সঙ্গে ওপার বাংলায় অবস্থানকারী নেতাদের যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভারতীয় সিম বা নম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করলেই ব্যবহারকারী নিশ্চিতভাবে ভারতে অবস্থান করছেন এমনটি ভাবার অবকাশ নেই, তবুও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাশকতার এই তদন্তে শুধু দেশীয় কর্মীরাই নয়, বরং সন্দেহভাজন এক ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গত সোমবার রাতে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যার পাসপোর্টের তথ্য ও জন্মতারিখে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা এই ব্যক্তি সাম্প্রতিক নাশকতাগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের জোরালো সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার নাশকতার সমন্বয়কারী হিসেবে মৎস্যজীবী লীগ নেতা মো. সবুজকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অর্থের লোভ বা পদ-পদবির লোভে যারা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ডিবির নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।