Dhaka ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চীনের গবেষকদের সাফল্য: সমুদ্রের গভীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে

সমুদ্রের পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক অর্জনের দাবি করেছেন চীনের গবেষকেরা। তারা দক্ষিণ চীন সাগরের উন্মুক্ত পানিতে প্রায় ১০ মিটার গভীরে সৌর প্যানেল স্থাপন করে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন। পানির নিচে উৎপাদিত সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি আলোও জ্বালানো সম্ভব হয়েছে।

ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই যুগান্তকারী গবেষণার ফল গত ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘জুল’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের গভীরে সূর্যের আলো দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। প্রায় ১০ মিটার গভীরে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ শতাংশ আলো পৌঁছায়। ফলে প্রচলিত সিলিকন সৌরকোষ সেখানে কম আলো ও সীমিত আলোকবর্ণালির কারণে কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না।

এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে গবেষকেরা লেড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট দিয়ে তৈরি বিশেষ সৌরকোষ ব্যবহার করেছেন। নীলচে-সবুজ আলোর উপস্থিতিতে এই ধরনের সৌরকোষ তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে সমুদ্রের লোনা পানি ও পানির চাপের কারণে সৌরকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ সমস্যা মোকাবিলায় কোষে পিএইচএমজি নামের একটি বিশেষ রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষক ঝাং ওয়েনহুয়া জানান, এর আগে পানির নিচে সৌরকোষ নিয়ে যেসব পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এত অল্প গভীরতা খুব একটা কার্যকর নয়। তাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ মিটার গভীরতায় সৌরকোষের কার্যকারিতা পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে প্রথমে ১০ মিটার গভীর সমুদ্রের পানির নিচের আলোর পরিবেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি করে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ছোট আকারের একটি সৌরকোষ আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ দক্ষতা দেখায়। বড় আকারের সৌরকোষের দক্ষতা ছিল ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ খুব কম আলোতেও বিশেষভাবে তৈরি এই সৌরকোষ কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

পানির নিচে দীর্ঘদিন সৌরকোষ সচল রাখার বিষয়টিও পরীক্ষায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ জন্য সৌরকোষের ওপর বিউটাইল রাবার, কাচ ও স্বচ্ছ ইপোক্সি রেজিনের একাধিক সুরক্ষা স্তর দেওয়া হয়। গবেষকদের মতে, এসব স্তর কোষকে পানি, পানির চাপ এবং ক্ষয় থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। কৃত্রিমভাবে তৈরি সমুদ্রের পানিতে ১০ মিটার গভীরতার সমতুল্য পরিবেশে সৌরকোষটিকে টানা ১ হাজার ঘণ্টা আলোতে রেখে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চীনের গবেষকদের সাফল্য: সমুদ্রের গভীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমুদ্রের পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক অর্জনের দাবি করেছেন চীনের গবেষকেরা। তারা দক্ষিণ চীন সাগরের উন্মুক্ত পানিতে প্রায় ১০ মিটার গভীরে সৌর প্যানেল স্থাপন করে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন। পানির নিচে উৎপাদিত সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি আলোও জ্বালানো সম্ভব হয়েছে।

ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই যুগান্তকারী গবেষণার ফল গত ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘জুল’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের গভীরে সূর্যের আলো দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। প্রায় ১০ মিটার গভীরে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ শতাংশ আলো পৌঁছায়। ফলে প্রচলিত সিলিকন সৌরকোষ সেখানে কম আলো ও সীমিত আলোকবর্ণালির কারণে কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না।

এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে গবেষকেরা লেড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট দিয়ে তৈরি বিশেষ সৌরকোষ ব্যবহার করেছেন। নীলচে-সবুজ আলোর উপস্থিতিতে এই ধরনের সৌরকোষ তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে সমুদ্রের লোনা পানি ও পানির চাপের কারণে সৌরকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ সমস্যা মোকাবিলায় কোষে পিএইচএমজি নামের একটি বিশেষ রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষক ঝাং ওয়েনহুয়া জানান, এর আগে পানির নিচে সৌরকোষ নিয়ে যেসব পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এত অল্প গভীরতা খুব একটা কার্যকর নয়। তাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ মিটার গভীরতায় সৌরকোষের কার্যকারিতা পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে প্রথমে ১০ মিটার গভীর সমুদ্রের পানির নিচের আলোর পরিবেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি করে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ছোট আকারের একটি সৌরকোষ আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ দক্ষতা দেখায়। বড় আকারের সৌরকোষের দক্ষতা ছিল ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ খুব কম আলোতেও বিশেষভাবে তৈরি এই সৌরকোষ কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

পানির নিচে দীর্ঘদিন সৌরকোষ সচল রাখার বিষয়টিও পরীক্ষায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ জন্য সৌরকোষের ওপর বিউটাইল রাবার, কাচ ও স্বচ্ছ ইপোক্সি রেজিনের একাধিক সুরক্ষা স্তর দেওয়া হয়। গবেষকদের মতে, এসব স্তর কোষকে পানি, পানির চাপ এবং ক্ষয় থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। কৃত্রিমভাবে তৈরি সমুদ্রের পানিতে ১০ মিটার গভীরতার সমতুল্য পরিবেশে সৌরকোষটিকে টানা ১ হাজার ঘণ্টা আলোতে রেখে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।