আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে এক অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন প্রবাসী গবেষক ড. রঞ্জন দত্ত। কানাডার আলবার্টা রাজ্যের ক্যালগেরিতে অবস্থিত স্বনামধন্য মাউন্ট রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রঞ্জন দত্ত সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ ‘রয়্যাল সোসাইটি অব কানাডা’র সম্মানজনক প্ল্যাটফর্ম ‘কলেজ অব নিউ স্কলার্স, আর্টিস্টস অ্যান্ড সায়েন্টিস্টস’-এর সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগ গবেষণা, আদিবাসী জ্ঞান এবং জলবায়ু অভিযোজনের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের অসামান্য ও যুগান্তকারী অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। কেবল উত্তর আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি বাংলাদেশ, নেপাল, উত্তর মেরুর আর্কটিক অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন।
ড. রঞ্জন দত্তের বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক গবেষণার মূল দর্শন বা কেন্দ্রবিন্দু হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা, তাদের ভূমিভিত্তিক জ্ঞান, স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী শাসনব্যবস্থাকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং নীতিনির্ধারকদের নীতিমালার মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করা। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বর্তমান বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের পরিবেশগত সংকট বা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল শুষ্ক বৈজ্ঞানিক উপাত্ত বা গবেষণাগারভিত্তিক জ্ঞানই যথেষ্ট হতে পারে না; বরং যুগ যুগ ধরে নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অভিজ্ঞতাই পারে সত্যিকারের টেকসই সমাধানের পথ দেখাতে।
তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান ও জোরালো স্তম্ভ হলো ‘উপনিবেশমুক্তকরণ’ বা ডিকলোনাইজেশন। ড. রঞ্জন মনে করেন যে, এটি কোনো সাধারণ সরকারি নীতি বা সাময়িক কোনো প্রশাসনিক প্রকল্পের বিষয় নয়, বরং এটি ভূমি, পানি, বন ও প্রকৃতির ওপর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত অধিকার, আইনি দায়বদ্ধতা এবং নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক যাত্রা।
উত্তর আমেরিকার মাটিতে ড. রঞ্জন দত্তের মতো বহু নিভৃতচারী ও মেধাবী বাংলাদেশি গবেষকের নিরবচ্ছিন্ন পদচারণা রয়েছে, যাদের মেধা ও সাফল্যের এই গৌরবোজ্জ্বল গল্পগুলো প্রায়শই মূলধারার জনআলোচনার আড়ালেই ঢাকা পড়ে থাকে। ড. দত্ত ব্যক্তিগত জীবনেও একজন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ, নিরহংকারী, মানবিক ও বিনয়ী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ক্যালগেরিতে প্রবাস জীবনের সূর্যোদয় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর পরিবার হৃদয়ে পরম মমতায় লালন ও ধারণ করে চলেছেন প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে।
মূলধারার আন্তর্জাতিক গবেষণার পাশাপাশি ক্যালগেরি তথা কানাডার মাটিতে বাংলাদেশি কৃষ্টি, শিল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা এবং এর সঠিক প্রসারে তাঁদের অনন্য অবদান সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। এই গুণী, মেধাবী ও মানবিক গবেষকের বর্ণাঢ্য সম্মাননায় দেশ ও প্রবাসের সুধীমহল গভীর আনন্দ ও গর্ববোধ করছে। তাঁর এই সুমহান অর্জন আগামী দিনের উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ড. রঞ্জন দত্তের চলমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মানবিক প্রচেষ্টা ও সমাজসেবামূলক বর্ণিল যাত্রা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হোক এবং তিনি আরও উচ্চ শিখরে আরোহণ করুন—এটাই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সকল বাঙালির ঐকান্তিক প্রত্যাশা।


























