Dhaka ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ভিয়েতনামি কালো ধানে কপাল খুলছে রকিবুলের, সাফল্য দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন বাবা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ বার দেখা হয়েছে

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রকিবুল হক পরীক্ষামূলকভাবে ভিয়েতনামী জাতের কালো ধান বা ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষ করে পুরো এলাকায় এক দারুণ চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৫০০ টাকা দিয়ে এক কেজি কালো চাল ক্রয় করে তা রান্না করে খাওয়ার পর এই পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ব্যতিক্রমী ধান চাষের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ জন্মায়। তবে শুরুর দিকে ছেলের এই অভিনব উদ্যোগকে অবাস্তব ও ইন্টারনেটভিত্তিক পাগলামি মনে করে নিজের পৈতৃক জমি দিতে বিন্দুমাত্র রাজি হননি তাঁর পিতা আমিনুল হক। বাবার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত আস্থা ও সহযোগিতা না পেয়ে তরুণ রকিবুল একটুও দমে না গিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অবিচল থাকেন এবং ২৪ হাজার টাকা খরচ করে ৩৩ শতক জমি ইজারা নিয়ে গত ৯ জুলাই এই ব্ল্যাক রাইসের চারা রোপণ করেন। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর নাগাদ এই ধান কাটার সময় নির্ধারিত রয়েছে।

সাধারণ দেশি ধানের মতোই খুব সহজে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত সার বা জটিল পরিচর্যা ছাড়াই উৎপাদিত এই ব্ল্যাক রাইস ক্ষেতের সবুজ পাতার মাঝে কালো শীষের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন এলাকার কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। প্রথমবার চাষেই তিনি ক্ষেত থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।

বর্তমানে স্থানীয় ও খোলা বাজারে প্রতি কেজি কালো চাল চারশো টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন এবং যথাযথ বাজারদর বজায় থাকলে তিনি প্রায় তিন লাখ কুড়ি হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পারবেন বলে হিসাব কষেছেন, যদিও এর মধ্যে উৎপাদনের অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত করা হয়নি। ধান পুরোপুরি কাটার আগেই স্থানীয় কৃষকরা এই নতুন ও লাভজনক জাতের বীজ সংগ্রহ করার জন্য রকিবুলের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। শম্ভু রায়, জুয়েল ও আকাশসহ এলাকার অনেক কৃষক তার এই অভাবনীয় সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামী মৌসুমে নিজেরাও এই ধান বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পুষ্টিবিজ্ঞান ও আধুনিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাক রাইসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ডায়েটারি ফাইবার ও প্রয়োজনীয় আয়রন থাকায় বিশ্বজুড়ে এটিকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, স্নায়ুরোগ প্রতিরোধ, বার্ধক্য রোধ এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই বিশেষ চালের অসাধারণ উপকারিতা রয়েছে। ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্য এবং ফসলের চমৎকার দৃশ্য দেখে পিতা আমিনুল হক তাঁর আগের ভুল ধারণা সংশোধন করে এখন দারুণভাবে গর্বিত বোধ করছেন এবং ভবিষ্যতেও ছেলেকে যত জমি প্রয়োজন তত জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, সঠিক উপায়ে উৎপাদন এবং সুনির্দিষ্ট বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে শৌখিন ক্রেতা ও চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলোতে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এই চাল দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ভিয়েতনামি কালো ধানে কপাল খুলছে রকিবুলের, সাফল্য দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন বাবা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রকিবুল হক পরীক্ষামূলকভাবে ভিয়েতনামী জাতের কালো ধান বা ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষ করে পুরো এলাকায় এক দারুণ চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৫০০ টাকা দিয়ে এক কেজি কালো চাল ক্রয় করে তা রান্না করে খাওয়ার পর এই পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ব্যতিক্রমী ধান চাষের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ জন্মায়। তবে শুরুর দিকে ছেলের এই অভিনব উদ্যোগকে অবাস্তব ও ইন্টারনেটভিত্তিক পাগলামি মনে করে নিজের পৈতৃক জমি দিতে বিন্দুমাত্র রাজি হননি তাঁর পিতা আমিনুল হক। বাবার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত আস্থা ও সহযোগিতা না পেয়ে তরুণ রকিবুল একটুও দমে না গিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অবিচল থাকেন এবং ২৪ হাজার টাকা খরচ করে ৩৩ শতক জমি ইজারা নিয়ে গত ৯ জুলাই এই ব্ল্যাক রাইসের চারা রোপণ করেন। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর নাগাদ এই ধান কাটার সময় নির্ধারিত রয়েছে।

সাধারণ দেশি ধানের মতোই খুব সহজে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত সার বা জটিল পরিচর্যা ছাড়াই উৎপাদিত এই ব্ল্যাক রাইস ক্ষেতের সবুজ পাতার মাঝে কালো শীষের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন এলাকার কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। প্রথমবার চাষেই তিনি ক্ষেত থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।

বর্তমানে স্থানীয় ও খোলা বাজারে প্রতি কেজি কালো চাল চারশো টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন এবং যথাযথ বাজারদর বজায় থাকলে তিনি প্রায় তিন লাখ কুড়ি হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পারবেন বলে হিসাব কষেছেন, যদিও এর মধ্যে উৎপাদনের অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত করা হয়নি। ধান পুরোপুরি কাটার আগেই স্থানীয় কৃষকরা এই নতুন ও লাভজনক জাতের বীজ সংগ্রহ করার জন্য রকিবুলের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। শম্ভু রায়, জুয়েল ও আকাশসহ এলাকার অনেক কৃষক তার এই অভাবনীয় সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামী মৌসুমে নিজেরাও এই ধান বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পুষ্টিবিজ্ঞান ও আধুনিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাক রাইসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ডায়েটারি ফাইবার ও প্রয়োজনীয় আয়রন থাকায় বিশ্বজুড়ে এটিকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, স্নায়ুরোগ প্রতিরোধ, বার্ধক্য রোধ এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই বিশেষ চালের অসাধারণ উপকারিতা রয়েছে। ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্য এবং ফসলের চমৎকার দৃশ্য দেখে পিতা আমিনুল হক তাঁর আগের ভুল ধারণা সংশোধন করে এখন দারুণভাবে গর্বিত বোধ করছেন এবং ভবিষ্যতেও ছেলেকে যত জমি প্রয়োজন তত জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, সঠিক উপায়ে উৎপাদন এবং সুনির্দিষ্ট বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে শৌখিন ক্রেতা ও চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলোতে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এই চাল দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।