Dhaka ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত, অর্ধশতাধিক মানুষ নিখোঁজ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জনবহুল এলাকায় রুশ সামরিক বাহিনীর চালানো অতর্কিত ও ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় বিধ্বস্ত ভবনটির মূল ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জার্মানির রাজধানী বার্লিন সফরকালে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা বলে অভিহিত করেছেন।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুদিন ধরে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ব্যাপক ও নির্বিচারে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এর ঠিক আগে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের একটি অত্যন্ত বিরল ও সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তাক্ত রুশ হামলার কারণে আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় আসন্ন শান্তি আলোচনার সম্ভাব্য অগ্রগতি নিয়েও তীব্র অনিশ্চয়তা ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান জেলেনস্কির দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সম্মুখসারির কৌশলগত কোমিশুভাখা গ্রামে রুশ বাহিনীর চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় একটি সাবেক স্কুল ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই ভবনটি মূলত প্রতি সপ্তাহের সোমবার করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা বিতরণের কাজে অত্যন্ত নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হতো।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “শত্রুপক্ষের মাত্র একটি একক হামলায় ঘটনাস্থলেই ৩৩ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এ পর্যন্ত কেবল পাঁচজন আহত ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ভবনটির বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন।”

তিনি এই মর্মান্তিক বিমান হামলাকে চলমান বৈরী যুদ্ধের অন্যতম বড় ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের তীব্র নিন্দা: এদিকে ইউক্রেনে সংঘটিত এই বর্বরোচিত রুশ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন। মিশনটির প্রধান ড্যানিয়েল বেল এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভবত খুব ভালোভাবেই জানত যে ওই নির্দিষ্ট গ্রামে বেসামরিক লোকজনের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে, অথবা সেখানে ঠিক কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে—তা জানার জন্য ন্যূনতম যেটুকু খোঁজখবর বা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তাও তারা নেয়নি।”

উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই খেরসন অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কয়েক দিনের একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। এর ফলে সংঘাতপূর্ণ ওই অঞ্চলে একটি বিরল মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

অন্যদিকে মঙ্গলবার ইউক্রেনের খারকিভ শহরের একটি ব্যস্ত হাসপাতালেও সুনির্দিষ্টভাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে চিকিৎসাধীন ও কর্মরত অবস্থায় বেশ কয়েকজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি। পাশাপাশি ইউক্রেনীয় অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অন্যান্য স্থানেও রুশ বাহিনীর অব্যাহত হামলায় আরও অন্তত চারজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আবুধাবিতে আসন্ন ত্রিপক্ষীয় শান্তি বৈঠক: ইউক্রেন, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে তিন পক্ষের প্রধান প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তিন পক্ষের মধ্যে এ ধরনের সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

মঙ্গলবার জার্মানির বার্লিন শহরে অবস্থানকালে জেলেনস্কি সংবাদমাধ্যমের সামনে গভীর আশা প্রকাশ করে বলেন যে, আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকের ফলস্বরূপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি এবং মুখোমুখি একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠানের পথ সুগম হতে পারে।

সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করছি যে, চলমান এই আলোচনার সামগ্রিক প্রক্রিয়া এবং আমাদের অন্যান্য কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নেতৃপর্যায়ের একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পথ উন্মুক্ত করবে।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বারবার এ ধরনের কোনো মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।

এদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিক কোনো রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা আলোচনার লক্ষণ তিনি এখনও দেখতে পাচ্ছেন না।

তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “রাশিয়ার এখন সময় এসেছে অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করা এবং পরবর্তী স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে আলোচনার টেবিলে বসা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত সেরকম কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনকে থাকতে হবে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বিভিন্ন কড়া সমালোচনার কারণে ইউক্রেন এবং তাদের পশ্চিমা ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মাঝে একধরনের চাপা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তাদের মূল আশঙ্কা হলো, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় স্বার্থের বিপরীতে রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলক বেশি নমনীয় বা সহযোগিতাপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি আসন্ন দিনগুলোতে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান, তবে একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকেও সেখানে অবশ্যই আমন্ত্রণ জানানো উচিত।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউক্রেন সংকট বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো বড় ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তবে সেই আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকেও অবশ্যই স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সরাসরি ব্যক্তিগত মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কয়েক দিনের ওই যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে, কিয়েভ সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে ওই যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি এর ভৌগোলিক পরিধি বিস্তারের অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মস্কো সেই শান্তির প্রস্তাব গ্রহণ করার পরিবর্তে উল্টো আরও বেশি নৃশংস ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমরা অত্যন্ত সদিচ্ছা নিয়ে রাশিয়াকে আমাদের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এর সুনির্দিষ্ট জবাবে আমরা পেয়েছি এই বর্বরোচিত হামলা। নতুন করে গোলাবর্ষণ, নতুন সামরিক আক্রমণ এবং আমাদের আরও বহু মানুষের প্রাণহানি।”

জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎসের মতে, খেরসনে অর্জিত সেই যুদ্ধবিরতিটি পরবর্তীতে ইউক্রেনের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি চমৎকার ও কার্যকর মডেল হতে পারত। কিন্তু রাশিয়া শুরু থেকেই এ ধরনের যেকোনো শান্তির উদ্যোগ সুকৌশলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক বৈঠক ও অন্যান্য কূটনৈতিক তৎপরতা: ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সামরিক ও আর্থিক সহায়তাকারী রাষ্ট্র জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎস পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, রাশিয়ার প্রতি তাঁদের কূটনৈতিক বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট; এবার যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করার উপযুক্ত সময় উপস্থিত হয়েছে।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বারবার তাঁর আগের অবস্থানে অনড় থেকে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনে কোনো ধরনের সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়ার ন্যূনতম কোনো আগ্রহ নেই। এমনকি পূর্ব ইউক্রেনের অবশিষ্ট অঞ্চলগুলো যেকোনো মূল্যে কঠোর সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দখল করার চূড়ান্ত লক্ষ্যও মস্কো কর্তৃপক্ষ আবারও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার লাগাতার ও ধারাবাহিক তীব্র হামলার কারণে আসন্ন শীতকাল মোকাবিলা করা নিয়ে দেশটিতে মারাত্মক মানবিক উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাজধানী কিয়েভ শহরে বর্তমান জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য খবরাখবরের মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন যে, রাজধানী মস্কো অঞ্চলের দিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা প্রায় ৫০০টি ড্রোন আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস বা প্রতিহত করা হয়েছে।

এরই মাঝে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি অটুট সমর্থন জানানোর অংশ হিসেবে চলতি মাসেই পোল্যান্ডের মাটিতে একটি যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই বিশেষ সামরিক মহড়ায় ইউরোপের প্রায় ১০টি ভিন্ন দেশের প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন সশস্ত্র সেনা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ময়দানে যেমন রুশ বাহিনীর বিমান হামলা ও ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ দিন দিন আরও মারাত্মকভাবে তীব্র হয়ে উঠছে, অন্যদিকে তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও শান্তি আলোচনার বিভিন্ন উদ্যোগ সমানতালে এগিয়ে চলেছে। তবে আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্ধারিত সেই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি কিংবা একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির সঠিক পথে কতটা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে সক্ষম হবে, তা নিয়ে বিশ্ববাসীর মনে এখনও গভীর সংশয় ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত, অর্ধশতাধিক মানুষ নিখোঁজ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জনবহুল এলাকায় রুশ সামরিক বাহিনীর চালানো অতর্কিত ও ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় বিধ্বস্ত ভবনটির মূল ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জার্মানির রাজধানী বার্লিন সফরকালে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা বলে অভিহিত করেছেন।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুদিন ধরে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ব্যাপক ও নির্বিচারে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এর ঠিক আগে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের একটি অত্যন্ত বিরল ও সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তাক্ত রুশ হামলার কারণে আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় আসন্ন শান্তি আলোচনার সম্ভাব্য অগ্রগতি নিয়েও তীব্র অনিশ্চয়তা ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান জেলেনস্কির দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সম্মুখসারির কৌশলগত কোমিশুভাখা গ্রামে রুশ বাহিনীর চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় একটি সাবেক স্কুল ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই ভবনটি মূলত প্রতি সপ্তাহের সোমবার করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা বিতরণের কাজে অত্যন্ত নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হতো।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “শত্রুপক্ষের মাত্র একটি একক হামলায় ঘটনাস্থলেই ৩৩ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এ পর্যন্ত কেবল পাঁচজন আহত ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ভবনটির বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন।”

তিনি এই মর্মান্তিক বিমান হামলাকে চলমান বৈরী যুদ্ধের অন্যতম বড় ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের তীব্র নিন্দা: এদিকে ইউক্রেনে সংঘটিত এই বর্বরোচিত রুশ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন। মিশনটির প্রধান ড্যানিয়েল বেল এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “রুশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভবত খুব ভালোভাবেই জানত যে ওই নির্দিষ্ট গ্রামে বেসামরিক লোকজনের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে, অথবা সেখানে ঠিক কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে—তা জানার জন্য ন্যূনতম যেটুকু খোঁজখবর বা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তাও তারা নেয়নি।”

উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই খেরসন অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কয়েক দিনের একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। এর ফলে সংঘাতপূর্ণ ওই অঞ্চলে একটি বিরল মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

অন্যদিকে মঙ্গলবার ইউক্রেনের খারকিভ শহরের একটি ব্যস্ত হাসপাতালেও সুনির্দিষ্টভাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে চিকিৎসাধীন ও কর্মরত অবস্থায় বেশ কয়েকজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি। পাশাপাশি ইউক্রেনীয় অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অন্যান্য স্থানেও রুশ বাহিনীর অব্যাহত হামলায় আরও অন্তত চারজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আবুধাবিতে আসন্ন ত্রিপক্ষীয় শান্তি বৈঠক: ইউক্রেন, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে তিন পক্ষের প্রধান প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তিন পক্ষের মধ্যে এ ধরনের সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

মঙ্গলবার জার্মানির বার্লিন শহরে অবস্থানকালে জেলেনস্কি সংবাদমাধ্যমের সামনে গভীর আশা প্রকাশ করে বলেন যে, আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকের ফলস্বরূপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি এবং মুখোমুখি একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠানের পথ সুগম হতে পারে।

সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করছি যে, চলমান এই আলোচনার সামগ্রিক প্রক্রিয়া এবং আমাদের অন্যান্য কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নেতৃপর্যায়ের একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পথ উন্মুক্ত করবে।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বারবার এ ধরনের কোনো মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।

এদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিক কোনো রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা আলোচনার লক্ষণ তিনি এখনও দেখতে পাচ্ছেন না।

তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “রাশিয়ার এখন সময় এসেছে অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করা এবং পরবর্তী স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে আলোচনার টেবিলে বসা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত সেরকম কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনকে থাকতে হবে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বিভিন্ন কড়া সমালোচনার কারণে ইউক্রেন এবং তাদের পশ্চিমা ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মাঝে একধরনের চাপা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তাদের মূল আশঙ্কা হলো, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় স্বার্থের বিপরীতে রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলক বেশি নমনীয় বা সহযোগিতাপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি আসন্ন দিনগুলোতে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান, তবে একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকেও সেখানে অবশ্যই আমন্ত্রণ জানানো উচিত।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউক্রেন সংকট বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো বড় ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তবে সেই আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকেও অবশ্যই স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সরাসরি ব্যক্তিগত মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কয়েক দিনের ওই যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে, কিয়েভ সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে ওই যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি এর ভৌগোলিক পরিধি বিস্তারের অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মস্কো সেই শান্তির প্রস্তাব গ্রহণ করার পরিবর্তে উল্টো আরও বেশি নৃশংস ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমরা অত্যন্ত সদিচ্ছা নিয়ে রাশিয়াকে আমাদের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এর সুনির্দিষ্ট জবাবে আমরা পেয়েছি এই বর্বরোচিত হামলা। নতুন করে গোলাবর্ষণ, নতুন সামরিক আক্রমণ এবং আমাদের আরও বহু মানুষের প্রাণহানি।”

জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎসের মতে, খেরসনে অর্জিত সেই যুদ্ধবিরতিটি পরবর্তীতে ইউক্রেনের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি চমৎকার ও কার্যকর মডেল হতে পারত। কিন্তু রাশিয়া শুরু থেকেই এ ধরনের যেকোনো শান্তির উদ্যোগ সুকৌশলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক বৈঠক ও অন্যান্য কূটনৈতিক তৎপরতা: ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সামরিক ও আর্থিক সহায়তাকারী রাষ্ট্র জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎস পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, রাশিয়ার প্রতি তাঁদের কূটনৈতিক বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট; এবার যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করার উপযুক্ত সময় উপস্থিত হয়েছে।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বারবার তাঁর আগের অবস্থানে অনড় থেকে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনে কোনো ধরনের সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়ার ন্যূনতম কোনো আগ্রহ নেই। এমনকি পূর্ব ইউক্রেনের অবশিষ্ট অঞ্চলগুলো যেকোনো মূল্যে কঠোর সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দখল করার চূড়ান্ত লক্ষ্যও মস্কো কর্তৃপক্ষ আবারও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার লাগাতার ও ধারাবাহিক তীব্র হামলার কারণে আসন্ন শীতকাল মোকাবিলা করা নিয়ে দেশটিতে মারাত্মক মানবিক উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাজধানী কিয়েভ শহরে বর্তমান জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য খবরাখবরের মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন যে, রাজধানী মস্কো অঞ্চলের দিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা প্রায় ৫০০টি ড্রোন আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস বা প্রতিহত করা হয়েছে।

এরই মাঝে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি অটুট সমর্থন জানানোর অংশ হিসেবে চলতি মাসেই পোল্যান্ডের মাটিতে একটি যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই বিশেষ সামরিক মহড়ায় ইউরোপের প্রায় ১০টি ভিন্ন দেশের প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন সশস্ত্র সেনা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ময়দানে যেমন রুশ বাহিনীর বিমান হামলা ও ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ দিন দিন আরও মারাত্মকভাবে তীব্র হয়ে উঠছে, অন্যদিকে তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও শান্তি আলোচনার বিভিন্ন উদ্যোগ সমানতালে এগিয়ে চলেছে। তবে আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্ধারিত সেই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি কিংবা একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির সঠিক পথে কতটা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে সক্ষম হবে, তা নিয়ে বিশ্ববাসীর মনে এখনও গভীর সংশয় ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।