Dhaka ০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ: কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

ইতিহাসের প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবই বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ধরন এবং শ্রমবাজারে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর ফলে কাজের প্রকৃতি রূপান্তরিত হয়েছে, কর্মীদের নতুন দক্ষতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং অনেক পুরোনো পেশা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে হারিয়ে গেছে।

অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে সংঘটিত প্রথম শিল্পবিপ্লবের সময় বাষ্পীয় ইঞ্জিনের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে হাতে করা অনেক কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে শুরু করে। পরবর্তীতে ঊনবিংশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের শুরুর দিকে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় বিদ্যুৎ ও ব্যাপক উৎপাদনব্যবস্থার প্রসার ঘটে, যা শিল্প খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে এবং বহু পুরোনো দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।

১৯৭০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত চলা ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে কম্পিউটার ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে দাপ্তরিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক শারীরিক শ্রমের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই পরিবর্তনের ফলে টাইপিস্ট, টেলিফোন সুইচবোর্ড অপারেটর কিংবা প্রচলিত হিসাবরক্ষকদের কাজের পরিধি কমে যায় এবং তথ্য সংরক্ষণ ও যোগাযোগের দায়িত্ব নেয় কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থা। উৎপাদন কারখানায় রোবটের ব্যবহার বাড়ায় অ্যাসেম্বলি লাইনের প্রচলিত কর্মীরা কাজ হারালেও, এর পাশাপাশি রোবট রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ জনবলের চাহিদা তৈরি হয়।

বর্তমান সময়ে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) বিপ্লবের সূচনালগ্নে অবস্থান করছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল কাজের ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং বহু পেশার চিরায়ত সংজ্ঞাকেও নতুনভাবে নির্ধারণ করছে। পূর্বাভাসভিত্তিক অ্যালগরিদম থেকে শুরু করে জেনারেটিভ এআই-এর অভূতপূর্ব অগ্রগতি একদিকে যেমন মানুষের কর্মদক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারানো ও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে কর্মীরা কতটা দ্রুত নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন তার ওপর। যারা যুগের চাহিদানুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন, তারা শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে পারবেন; অন্যথায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক প্রভাব এমন সব পেশার ওপর সবচেয়ে বেশি পড়বে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু কাজ নিয়মিত বা পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে করতে হয়। এর বিপরীতে জটিল তথ্য বিশ্লেষণ ও সৃজনশীল খাতেও এআই-এর ব্যবহার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ: কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইতিহাসের প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবই বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ধরন এবং শ্রমবাজারে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর ফলে কাজের প্রকৃতি রূপান্তরিত হয়েছে, কর্মীদের নতুন দক্ষতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং অনেক পুরোনো পেশা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে হারিয়ে গেছে।

অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে সংঘটিত প্রথম শিল্পবিপ্লবের সময় বাষ্পীয় ইঞ্জিনের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে হাতে করা অনেক কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে শুরু করে। পরবর্তীতে ঊনবিংশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের শুরুর দিকে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় বিদ্যুৎ ও ব্যাপক উৎপাদনব্যবস্থার প্রসার ঘটে, যা শিল্প খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে এবং বহু পুরোনো দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।

১৯৭০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত চলা ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে কম্পিউটার ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে দাপ্তরিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক শারীরিক শ্রমের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই পরিবর্তনের ফলে টাইপিস্ট, টেলিফোন সুইচবোর্ড অপারেটর কিংবা প্রচলিত হিসাবরক্ষকদের কাজের পরিধি কমে যায় এবং তথ্য সংরক্ষণ ও যোগাযোগের দায়িত্ব নেয় কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থা। উৎপাদন কারখানায় রোবটের ব্যবহার বাড়ায় অ্যাসেম্বলি লাইনের প্রচলিত কর্মীরা কাজ হারালেও, এর পাশাপাশি রোবট রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ জনবলের চাহিদা তৈরি হয়।

বর্তমান সময়ে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) বিপ্লবের সূচনালগ্নে অবস্থান করছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল কাজের ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং বহু পেশার চিরায়ত সংজ্ঞাকেও নতুনভাবে নির্ধারণ করছে। পূর্বাভাসভিত্তিক অ্যালগরিদম থেকে শুরু করে জেনারেটিভ এআই-এর অভূতপূর্ব অগ্রগতি একদিকে যেমন মানুষের কর্মদক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারানো ও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে কর্মীরা কতটা দ্রুত নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন তার ওপর। যারা যুগের চাহিদানুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন, তারা শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে পারবেন; অন্যথায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক প্রভাব এমন সব পেশার ওপর সবচেয়ে বেশি পড়বে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু কাজ নিয়মিত বা পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে করতে হয়। এর বিপরীতে জটিল তথ্য বিশ্লেষণ ও সৃজনশীল খাতেও এআই-এর ব্যবহার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।