Dhaka ০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কী-বোর্ডের ইংরেজি অক্ষরগুলো কেন এলোমেলো বিন্যাসে থাকে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

প্রথম দিকের যান্ত্রিক টাইপরাইটারে অক্ষরগুলো যদি বর্ণমালার স্বাভাবিক ক্রমে সাজানো থাকত, তবে দ্রুত টাইপ করার সময় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকত। আধুনিক ডিজিটাল কী-বোর্ডে কোনো বোতাম চাপলে বৈদ্যুতিক সংকেত বা ইনপুট তৈরি হলেও, পুরোনো যান্ত্রিক টাইপরাইটারে প্রতিটি অক্ষরের জন্য আলাদা টাইপবার (typebar) ছিল। কোনো নির্দিষ্ট কি চাপলে সংশ্লিষ্ট টাইপবার কালিযুক্ত ফিতার মাধ্যমে কাগজে কাঙ্ক্ষিত অক্ষরটি ছাপিয়ে দিত।

পুরোনো ওই যন্ত্রগুলোতে পরপর দ্রুত টাইপ করার সময় কাছাকাছি থাকা টাইপবারগুলো পরস্পরের সঙ্গে আটকে বা সংঘর্ষে জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকত। এই যান্ত্রিক সমস্যা এড়ানোর জন্যই মূলত অক্ষরের প্রচলিত বিন্যাস পরিবর্তন করা হয়েছিল—যা কিউয়ার্টি (QWERTY) বিন্যাসের উৎপত্তি নিয়ে সবচেয়ে পরিচিত ব্যাখ্যা। গবেষকদের মতে, তৎকালীন টেলিগ্রাফ অপারেটরদের কাজ এবং মোর্স কোড থেকে বার্তা পাঠোদ্ধার করার প্রয়োজনীয়তাও এই বিন্যাস তৈরিতে প্রভাব রাখতে পারে। তাই কিউয়ার্টি বিন্যাস কেবল টাইপরাইটারের জ্যাম ঠেকানোর জন্যই তৈরি হয়েছিল, বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

কী-বোর্ডের ওপরের সারির বাঁ দিক থেকে প্রথম ছয়টি অক্ষর হলো Q, W, E, R, T এবং Y। এই অক্ষরগুলোর নামানুসারেই বিন্যাসটির নাম রাখা হয়েছে ‘QWERTY’। সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত হয়ে ওঠে। বর্তমান যুগের ব্যবহারকারীরা এই বিন্যাসটি এতটাই স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করেন যে, অক্ষর সাজানোর অন্য কোনো পদ্ধতিও থাকতে পারত—এমন ভাবনার অবকাশ খুব একটা কেউ পান না। অথচ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, টাইপরাইটারের সূচনালগ্নে অক্ষর সাজানোর একাধিক পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছিল।

কোনো প্রযুক্তি বাজারে এলেই সেটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয় না; বরং এর উৎপাদন, বিপণন, ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেই এর জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হয়। রেমINGTON-এর টাইপরাইটার বাজারে আসার পর অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে টাইপিস্টদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। একবার একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর অন্য কোনো বিন্যাসে হাত পাকানো বেশ সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এ কারণেই পরিচিত বিন্যাসটির চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে অন্যান্য নির্মাতারাও যখন প্রচলিত টাইপরাইটারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নকশা তৈরি করতে শুরু করে, তখন কিউয়ার্টি বিন্যাস আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেয় এবং টাইপরাইটার ক্রেতা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও দক্ষ টাইপিস্টদের জন্য এটি সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কী-বোর্ডের ইংরেজি অক্ষরগুলো কেন এলোমেলো বিন্যাসে থাকে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

প্রথম দিকের যান্ত্রিক টাইপরাইটারে অক্ষরগুলো যদি বর্ণমালার স্বাভাবিক ক্রমে সাজানো থাকত, তবে দ্রুত টাইপ করার সময় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকত। আধুনিক ডিজিটাল কী-বোর্ডে কোনো বোতাম চাপলে বৈদ্যুতিক সংকেত বা ইনপুট তৈরি হলেও, পুরোনো যান্ত্রিক টাইপরাইটারে প্রতিটি অক্ষরের জন্য আলাদা টাইপবার (typebar) ছিল। কোনো নির্দিষ্ট কি চাপলে সংশ্লিষ্ট টাইপবার কালিযুক্ত ফিতার মাধ্যমে কাগজে কাঙ্ক্ষিত অক্ষরটি ছাপিয়ে দিত।

পুরোনো ওই যন্ত্রগুলোতে পরপর দ্রুত টাইপ করার সময় কাছাকাছি থাকা টাইপবারগুলো পরস্পরের সঙ্গে আটকে বা সংঘর্ষে জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকত। এই যান্ত্রিক সমস্যা এড়ানোর জন্যই মূলত অক্ষরের প্রচলিত বিন্যাস পরিবর্তন করা হয়েছিল—যা কিউয়ার্টি (QWERTY) বিন্যাসের উৎপত্তি নিয়ে সবচেয়ে পরিচিত ব্যাখ্যা। গবেষকদের মতে, তৎকালীন টেলিগ্রাফ অপারেটরদের কাজ এবং মোর্স কোড থেকে বার্তা পাঠোদ্ধার করার প্রয়োজনীয়তাও এই বিন্যাস তৈরিতে প্রভাব রাখতে পারে। তাই কিউয়ার্টি বিন্যাস কেবল টাইপরাইটারের জ্যাম ঠেকানোর জন্যই তৈরি হয়েছিল, বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

কী-বোর্ডের ওপরের সারির বাঁ দিক থেকে প্রথম ছয়টি অক্ষর হলো Q, W, E, R, T এবং Y। এই অক্ষরগুলোর নামানুসারেই বিন্যাসটির নাম রাখা হয়েছে ‘QWERTY’। সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত হয়ে ওঠে। বর্তমান যুগের ব্যবহারকারীরা এই বিন্যাসটি এতটাই স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করেন যে, অক্ষর সাজানোর অন্য কোনো পদ্ধতিও থাকতে পারত—এমন ভাবনার অবকাশ খুব একটা কেউ পান না। অথচ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, টাইপরাইটারের সূচনালগ্নে অক্ষর সাজানোর একাধিক পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছিল।

কোনো প্রযুক্তি বাজারে এলেই সেটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয় না; বরং এর উৎপাদন, বিপণন, ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেই এর জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হয়। রেমINGTON-এর টাইপরাইটার বাজারে আসার পর অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে টাইপিস্টদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। একবার একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর অন্য কোনো বিন্যাসে হাত পাকানো বেশ সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এ কারণেই পরিচিত বিন্যাসটির চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে অন্যান্য নির্মাতারাও যখন প্রচলিত টাইপরাইটারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নকশা তৈরি করতে শুরু করে, তখন কিউয়ার্টি বিন্যাস আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেয় এবং টাইপরাইটার ক্রেতা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও দক্ষ টাইপিস্টদের জন্য এটি সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠে।