রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব প্রাঙ্গণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চলমান মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলায় আল-কায়েদা ও অন্যান্য উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত পরিচিত নেতাদের লেখা এবং তাদের বক্তব্যসংবলিত বই বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু মেলা প্রাঙ্গণেই নয়, বরং বাংলাবাজারের বিভিন্ন স্টেশনারি দোকান থেকে শুরু করে রকমারি, বাতিঘর, ওয়াফিলাইফসহ দেশের খ্যাতনামা বেশ কিছু অনলাইন বইয়ের দোকানেও এসব বই অবাধে বিক্রি ও প্রচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের উগ্রবাদী সাহিত্য প্রকাশ ও বিপণনে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কার্যকর বাধা না থাকায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেলায় অংশ নেওয়া অন্তত দশটি প্রকাশনীর স্টলে এবং বিভিন্ন অনলাইন শপে আবদুল্লাহ ইউসুফ আজ্জাম, ওসামা বিন লাদেন, আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং একিউআইএস ও আনসার আল-ইসলামের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নেতাদের বাংলা অনূদিত বই পসরা সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব বইয়ে নাশকতামূলক কৌশল প্রয়োগ, বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা এবং সাধারণ মানুষকে হত্যার মতো সহিংস কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে উগ্রবাদকে উসকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রূহামা, সিয়ন, আর-রিহাব, শব্দতরু এবং খান পাবলিকেশনের মতো একাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এসব বিতর্কিত বই প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত বলে নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রকাশনীর মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
এদিকে মেলা আয়োজক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বই বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের আগে জানা ছিল না এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, নির্দিষ্ট কোনো সরকারি নীতিমালা বা নির্দেশনা না থাকায় অনেক সময় এ ধরনের বই নিয়ে তাদের বিপাকে পড়তে হয়। তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে এ ধরনের উগ্রপন্থী প্রচারণামূলক বইয়ের অবাধ বিপণন কঠোরভাবে বন্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও নিবিড় নজরদারি বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল ও শিক্ষাবিদেরা।


























