দেশীয় মৎস্য প্রজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হওয়ায় পিরানহা মাছের চাষ, মজুত, পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বহু আগেই। অথচ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে অত্যন্ত প্রকাশ্যেই দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এই হিংস্র স্বভাবের নিষিদ্ধ মাছটি। অধিক মুনাফা অর্জনের লোভে অন্যান্য সাধারণ মাছের সঙ্গে পসরা সাজিয়ে একাধিক অসাধু ব্যবসায়ী এই পিরানহা বিক্রি করে চলেছেন। সামুদ্রিক রূপচাঁদা মাছের সঙ্গে এর শারীরিক মিল থাকায় অনেক ক্রেতাই এটিকে রূপচাঁদা মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
উপজেলার ব্যস্ততম নতুন বাজার ও পুরানবাজারসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। মাছ বিক্রেতাদের অনেকে জানান যে, স্থানীয় মৎস্য আড়তগুলোতে হরহামেশাই এই মাছ বিক্রি করা হয়। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের কাছে এর দাম তুলনামূলক কম থাকায় ক্রেতাদের মাঝে মাছটির ভালো চাহিদা রয়েছে, সে কারণেই তারা এটি কিনে এনে বাজারে বিক্রি করেন। তবে মাছটি যে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ কিংবা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই বলে দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ হলো, অন্যান্য মাছের উচ্চমূল্যের তুলনায় পিরানহা মাছটি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাওয়ায় তারা এটি খরিদ করে থাকেন। এটি মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর, সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ। অনেক সময় অসাধু বিক্রেতারা এটিকে রূপচাঁদা মাছ বলে ভুল বুঝিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে দেন।
প্রাসঙ্গিক মৎস্য সুরক্ষা আইনের বিধান অনুযায়ী, মানুষখেকো এই মাছের আমদানি, বহন, প্রজনন, চাষ, বিক্রি, বাজারজাত, প্রদর্শন এবং মজুত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সাল থেকেই এই ক্ষতিকর মাছটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে।
সার্বিক এই বিষয়ের প্রেক্ষিতে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বাজার মনিটরিংয়ের আওতাধীন এলাকায় শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


























