চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপকূলকে ব্যবহার করে সমুদ্রপথে ইউরিয়া সার পাচারের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাচারকারীরা প্রথমে ট্রাকে করে উপকূলীয় ঘাটে সার নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে মাছ ধরার ট্রলার কিংবা কার্গো বোটে তা তুলে সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা চালায়। গত দুই মাসে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের পাঁচটি পৃথক অভিযানে প্রায় ৩ হাজার বস্তা বা ১৪৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার ভোরে মিরসরাইয়ের ইছাখালীতে দুটি ট্রাকসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার জব্দ এবং আটজনকে আটক করে পুলিশ।
বারবার বড় চালান জব্দ হলেও পাচারের মূল হোতাদের এখনো চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করা না যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইউরিয়া সার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পৌঁছাচ্ছে এবং এর বিনিময়ে অবৈধ মাদক ও অস্ত্র দেশে আসছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোররাতে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকা থেকে সারবোঝাই দুটি ডাম্পট্রাক আটক করা হয়। ৫০ কেজি ওজনের ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সারসহ আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত দীর্ঘ অভিযানে দুটি ট্রাকসহ সার জব্দ করা হয়েছে এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিরসরাইয়ের ইছাখালী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে চারটি ট্রাক ও একটি মাছ ধরার নৌযানসহ ৯৬০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছিল, যেখানে সার স্থানান্তরের সময় তিনজনকে আটক করা হয়।


























