সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। রিকনসিলিয়েশন বলতে পুনর্মিলন, সমঝোতা বা বিরোধ মিটিয়ে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাকে বোঝায়। ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হলেও, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের প্রসঙ্গ উঠলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে।
কারা এই সমঝোতা চাইছেন? কী শর্তে এটি হবে? কার উদ্যোগে এবং জনগণের কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য এই আলোচনা? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই উদ্যোগ কি ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, নাকি বিগত সরকারের অন্যায়-অপরাধের দায় মিটমাট করে একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পুনর্বাসনের পথ তৈরি করবে?
দেশের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে দায়মুক্তিমূলক পুনর্মিলনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের কার্যকর সমাধান এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
দেশের মানুষকে নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারলে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে পারলেই স্থিতিশীলতার ভিত্তি মজবুত হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতাকে এসব কাজের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এই পুনর্মিলনের আলোচনার পেছনে কার কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে কেউ কেউ হয়তো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সম্ভাব্য উত্থান কিংবা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন অনুভব করছেন। এমন উদ্বেগ থাকলে তা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হতে পারে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক শক্তির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আরেকটি শক্তির অতীতের দায়কে গৌণ করে দেখা হবে গুরুতর রাজনৈতিক ভুল।
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে হবে জনসমর্থন, গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি, কার্যকর নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মাধ্যমে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে—এমন ধারণা জনগণের সামর্থ্য ও রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকেই খাটো করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, ত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করে জনগণ যে পরিবর্তন এনেছে, তার মূল লক্ষ্যই ছিল ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।


























