ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সকল পদের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) শুক্রবার ভোরে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট ৫৩টি আসন এবং প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট ৪৮টি আসন লাভ করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক ১৯টি আসন অর্জন করেছে আরব দলগুলো। তবে কোনো রাজনৈতিক পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, যার ফলে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঝুলন্ত সংসদ তৈরি হয়েছে।
দলীয়ভিত্তিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এককভাবে ২৭টি আসন এবং গাদি আইজেনকটের দল ইয়াশার ২১টি আসন পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে বি’ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি, রা’আম ৮টি, ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, ওতজমা ইয়েহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়নবাদ ৬টি আসন নিশ্চিত করেছে। তবে প্রয়োজনীয় ৩.২৫ শতাংশ নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হওয়ায় ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টিসহ কয়েকটি দল কোনো আসন পায়নি। নির্বাচনে মোট ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং উপস্থিতির হার ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
পূর্বের নেসেটে নেতানিয়াহু জোটের ৬৮টি আসন থাকলেও তা এবার কমে ৫৩টিতে ঠেকেছে। নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলো (জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম) এখন সবচেয়ে নির্ণায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তবে দ্য ডেমোক্র্যাটস ব্যতীত বিরোধী জোটের অন্যান্য জায়নবাদী দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর প্রকাশ্য আদর্শগত বিরোধ থাকায় সরকার গঠন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। এদিকে ভোট জালিয়াতির যাবতীয় অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট ও আরেকটি নির্বাচন এড়াতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সকল দলকে উদার মানসিকতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।























