বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলেদের মধ্যে সংঘটিত এক সংঘর্ষে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামের এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও চারজন জেলে গুলিবিদ্ধ হলেও তারা গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মা ইলিশ নিধন রোধে অভিযানের শেষ দিনে বুধবার দিবাগত শেষ রাতে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আকতার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার মরদেহ হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তবে এই গুলি ও অভিযান বিষয়ে কোনো বাহিনী বা পক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় গত ২১ দিন ধরে মেঘনা নদীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দল অভিযান চালিয়ে আসছিল। ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ সময়ের শেষ রাতে আকতার হোসেন ও তার সহযোগীরা মাছ ধরতে গেলে অভিযান পরিচালনাকারী একটি দলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী দলের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে আকতার হোসেনের বুকে বিদ্ধ হয় এবং আরও চারজন জেলে আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় আকতার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে আহত অন্য জেলেরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
নিহতের বোন সাথী আক্তার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, বুধবার রাতে আকতার হোসেনসহ অন্যান্যরা মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযানকারী দলের গুলিতে তার ভাই গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ওই সময় মেঘনায় কোস্টগার্ডের কোনো অভিযান ছিল না। একইভাবে বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নৌ-পুলিশেরও কোনো অভিযান ছিল না। হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “জেলে মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে জানতে পেরেছি। বুধবার রাতে আমাদের কোনো অভিযানিক দল মেঘনা নদীতে যায়নি।”


























