Dhaka ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ী খোরশেদ হত্যা: মাটি ব্যবসার বিরোধেই খুন, মামলা ও গ্রেপ্তার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের অভিযোগ, ইটভাটায় মাটি বিক্রির ব্যবসা নিয়ে বিরোধ থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ির পাশেই গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত খোরশেদের মেয়ে প্রেমা আক্তার (১৯) ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমার বাবা ঘরে ছিলেন। মজিদ আর মোরশেদ বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সামনে ডাবের গাড়ি যাচ্ছে, পেছনে বাবা, মজিদ ও মোরশেদ হেঁটে যাচ্ছেন। যাওয়ার দুই মিনিট পরই পরপর তিনটি গুলির শব্দ শুনি। সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌড়ে এসে বলে—ওয়ালিদ আর সোহাগ আমার বাবাকে গুলি করেছে। আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে আমার মা-ও আসেন। বাবা তখনো ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলছিলেন।”

প্রেমা আক্তার আরও জানান, তার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিলেন। বিএনপি করার কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে নানান মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে। তবে পরিবারের ধারণা, তাকে দলীয় কারণে মারা হয়নি। রাজনৈতিক কারণে মারা হলে তিনি বিগত সরকারের আমলেই আক্রান্ত হতেন। মূলত তিনি মাটির ব্যবসা করতেন, আর এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিক ফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার লোকেরা বাবার পেছনে লেগে ছিল। এর আগেও মাটির ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে, মেরে ফেলার কথা বলা হয়েছে। মৃত্যুর আগেও বাবা হিরু, ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলে গেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছোট্টু ও মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম ছোট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং মাসুদ রানার বাড়ি বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, বুধবার দুপুরে দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছোট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু ও জহিরসহ ৫-৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ী খোরশেদ হত্যা: মাটি ব্যবসার বিরোধেই খুন, মামলা ও গ্রেপ্তার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের অভিযোগ, ইটভাটায় মাটি বিক্রির ব্যবসা নিয়ে বিরোধ থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ির পাশেই গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত খোরশেদের মেয়ে প্রেমা আক্তার (১৯) ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমার বাবা ঘরে ছিলেন। মজিদ আর মোরশেদ বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সামনে ডাবের গাড়ি যাচ্ছে, পেছনে বাবা, মজিদ ও মোরশেদ হেঁটে যাচ্ছেন। যাওয়ার দুই মিনিট পরই পরপর তিনটি গুলির শব্দ শুনি। সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌড়ে এসে বলে—ওয়ালিদ আর সোহাগ আমার বাবাকে গুলি করেছে। আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে আমার মা-ও আসেন। বাবা তখনো ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলছিলেন।”

প্রেমা আক্তার আরও জানান, তার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিলেন। বিএনপি করার কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে নানান মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে। তবে পরিবারের ধারণা, তাকে দলীয় কারণে মারা হয়নি। রাজনৈতিক কারণে মারা হলে তিনি বিগত সরকারের আমলেই আক্রান্ত হতেন। মূলত তিনি মাটির ব্যবসা করতেন, আর এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিক ফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার লোকেরা বাবার পেছনে লেগে ছিল। এর আগেও মাটির ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে, মেরে ফেলার কথা বলা হয়েছে। মৃত্যুর আগেও বাবা হিরু, ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলে গেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছোট্টু ও মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম ছোট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং মাসুদ রানার বাড়ি বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, বুধবার দুপুরে দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছোট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু ও জহিরসহ ৫-৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।