লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের অভিযোগ, ইটভাটায় মাটি বিক্রির ব্যবসা নিয়ে বিরোধ থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ির পাশেই গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত খোরশেদের মেয়ে প্রেমা আক্তার (১৯) ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমার বাবা ঘরে ছিলেন। মজিদ আর মোরশেদ বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সামনে ডাবের গাড়ি যাচ্ছে, পেছনে বাবা, মজিদ ও মোরশেদ হেঁটে যাচ্ছেন। যাওয়ার দুই মিনিট পরই পরপর তিনটি গুলির শব্দ শুনি। সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌড়ে এসে বলে—ওয়ালিদ আর সোহাগ আমার বাবাকে গুলি করেছে। আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে আমার মা-ও আসেন। বাবা তখনো ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলছিলেন।”
প্রেমা আক্তার আরও জানান, তার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিলেন। বিএনপি করার কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে নানান মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে। তবে পরিবারের ধারণা, তাকে দলীয় কারণে মারা হয়নি। রাজনৈতিক কারণে মারা হলে তিনি বিগত সরকারের আমলেই আক্রান্ত হতেন। মূলত তিনি মাটির ব্যবসা করতেন, আর এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিক ফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার লোকেরা বাবার পেছনে লেগে ছিল। এর আগেও মাটির ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে, মেরে ফেলার কথা বলা হয়েছে। মৃত্যুর আগেও বাবা হিরু, ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলে গেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছোট্টু ও মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম ছোট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং মাসুদ রানার বাড়ি বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, বুধবার দুপুরে দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছোট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু ও জহিরসহ ৫-৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।


























