Dhaka ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-যশোর প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবিতে যশোরবাসীর এক মাসের আল্টিমেটাম

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

যশোর শহর থেকে সরাসরি রাজধানী ঢাকাগামী প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালুসহ মোট ছয় দফা সুনির্দিষ্ট দাবিতে আবারও রাজপথে তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন যশোর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আগামী এক মাসের একটি কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি যশোর থেকে ঢাকা রুটে সকালের প্রভাতী ট্রেন চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসে, তবে ঐতিহ্যবাহী যশোর জংশন পুরোপুরি অবরোধ করে সারাদেশের সাথে ট্রেন চলাচল চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন আন্দোলনরত নেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এক প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি সফলভাবে পালন করে এই আঞ্চলিক সংগ্রাম কমিটি। উক্ত কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারী শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যশোরের সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনা করে আসছেন। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে এই যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা হলে পরবর্তীতে এই প্রতীকী অবরোধের পরিবর্তে সরাসরি যশোর জংশন অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালনে বাধ্য হবেন তারা।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সম্মানিত আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি দলের সাবেক সফল কোচ কাওসার আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই নাগরিক কর্মসূচিতে ঐক্য সংহতি জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন প্রবীণ রাজনীতিক হাসিনুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সম্মানিত সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সিপিবি যশোর জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, স্থানীয় রেল আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতা আমিনুর রহমান হিরু ও তসলিমুর রহমান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা আহসান উল্লাহ ময়না, রেল আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড এবং কোটচাঁদপুরের স্থানীয় আন্দোলনের নেতা মনিরুজ্জামান ও নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কর্মসূচি চলাকালে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সুযোগ্য সদস্যসচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন অত্যন্ত জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, একেবারে শুরু থেকেই সমগ্র যশোরবাসী প্রত্যুষে যশোর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকার উদ্দেশে একটি সার্বক্ষণিক প্রভাতী ইন্টারসিটি ট্রেন চালুর জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মূল সুফল হিসেবে অঞ্চলের সাধারণ কর্মজীবী ও ব্যবসায়ী মানুষ খুব সকালে নিজ নিজ বাসভবন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে অত্যন্ত সহজে রাজধানী পৌঁছে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ বা প্রয়োজনীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সেরে নিতে পারবেন। এর পাশাপাশি একইদিন সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে একটি সুবিধাজনক ফিরতি ট্রেন চালু করা গেলে সমস্ত কাজ শেষে রাতের মধ্যেই মানুষ নিরাপদে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হবেন।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে আরও বলেন, বেনাপোল, যশোর সদর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চিকিৎসার প্রয়োজন ও কাজের তাগিদে ঢাকার উদ্দেশে যাতায়াত করে থাকেন। এসব রুটে ট্রেনের ট্রিপ বা যাত্রার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে তথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে আর্থিকভাবে বহুগুণ লাভবান হবে। এর পাশাপাশি যেকোনো দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেল যোগাযোগব্যবস্থা সর্বোচ্চ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি সড়কপথের তুলনায় এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অবিশ্বাস্য রকম কম।

এ সময় প্রকৌশলী রুহুল আমিন জনস্বার্থে সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ৬ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—অনতিবিলম্বে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে আধুনিক প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালু করা; সাধারণ, নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের সুগম যাতায়াতের স্বার্থে প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাধারণ শোভন বগি যুক্ত করা; দর্শনা-খুলনা এবং বেনাপোল-যশোর রুটে জরুরি ভিত্তিতে ডাবল রেললাইন স্থাপন করা; ট্রেনের সাধারণ আসন ভাড়ার হার সবসময় যাত্রীবাহী বাসভাড়ার চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে কম রাখা; যাত্রীদের অনলাইন টিকিটিং নিবন্ধনের বাইরে ম্যানুয়াল টিকিটের বিকল্প সুব্যবস্থা রাখা এবং প্রবীণ প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আন্তনগর ট্রেনগুলোতে স্থানীয় কৃষিপণ্য, তাজা ফুল, সবজি ও তাজা মাছ পরিবহনের জন্য অন্তত একটি নির্দিষ্ট মালামাল পরিবহন বগি সংযুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব রুহুল আমিন পূর্বের আন্দোলনের স্মৃতি উল্লেখ করে আরও বলেন, বিগত ২০২৩ সাল থেকেই যশোর অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে তারা এসব মৌলিক দাবিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সোচ্চার রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ে সরাসরি সরকারের তৎকালীন রেলমন্ত্রী, রেলসচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার অনুলিপি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এমনকি পূর্বে রেলসচিব ও মহাপরিচালকের সাথে যৌথ উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময়ের পাশাপাশি একাধিকবার সুশীল সমাজের মানববন্ধন, প্রতিবাদ বিক্ষোভ, টানা দুই দফা সরাসরি রেল অবরোধ এবং কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। এমনকি দাবির সপক্ষে অতীতে রেলওয়ের মহাপরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করতে পিছপা হননি তারা।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিপূর্বে যৌক্তিক আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে তৎকালীন রেলসচিব ও মহাপরিচালক যশোরবাসীকে লিখিত ও মুখে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই এই রুটে আরও একটি নতুন আধুনিক আন্তনগর ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু চলতি অক্টোবর মাস পার হয়ে গেলেও নতুন প্রভাতী ট্রেন চালু করার কোনো কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অথচ ইতিমধ্যে বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে নতুন ট্রেনের আধুনিক রেক বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আগামী এক মাসের সময়সীমার মধ্যে যদি ঢাকা-যশোর প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালুর সুনির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা না আসে, তবে তারা যশোর জংশন অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ করে সারাদেশের সাথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

এদিকে কালেক্টরেট চত্বরে আয়োজিত প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি শেষে আন্দোলনরত নাগরিকরা যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মহামান্য রেলমন্ত্রী বরাবর একটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। যশোরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে পাঠিয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-যশোর প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবিতে যশোরবাসীর এক মাসের আল্টিমেটাম

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

যশোর শহর থেকে সরাসরি রাজধানী ঢাকাগামী প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালুসহ মোট ছয় দফা সুনির্দিষ্ট দাবিতে আবারও রাজপথে তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন যশোর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আগামী এক মাসের একটি কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি যশোর থেকে ঢাকা রুটে সকালের প্রভাতী ট্রেন চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসে, তবে ঐতিহ্যবাহী যশোর জংশন পুরোপুরি অবরোধ করে সারাদেশের সাথে ট্রেন চলাচল চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন আন্দোলনরত নেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এক প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি সফলভাবে পালন করে এই আঞ্চলিক সংগ্রাম কমিটি। উক্ত কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারী শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যশোরের সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনা করে আসছেন। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে এই যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা হলে পরবর্তীতে এই প্রতীকী অবরোধের পরিবর্তে সরাসরি যশোর জংশন অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালনে বাধ্য হবেন তারা।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সম্মানিত আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি দলের সাবেক সফল কোচ কাওসার আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই নাগরিক কর্মসূচিতে ঐক্য সংহতি জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন প্রবীণ রাজনীতিক হাসিনুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সম্মানিত সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সিপিবি যশোর জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, স্থানীয় রেল আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতা আমিনুর রহমান হিরু ও তসলিমুর রহমান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা আহসান উল্লাহ ময়না, রেল আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড এবং কোটচাঁদপুরের স্থানীয় আন্দোলনের নেতা মনিরুজ্জামান ও নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কর্মসূচি চলাকালে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সুযোগ্য সদস্যসচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন অত্যন্ত জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, একেবারে শুরু থেকেই সমগ্র যশোরবাসী প্রত্যুষে যশোর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকার উদ্দেশে একটি সার্বক্ষণিক প্রভাতী ইন্টারসিটি ট্রেন চালুর জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মূল সুফল হিসেবে অঞ্চলের সাধারণ কর্মজীবী ও ব্যবসায়ী মানুষ খুব সকালে নিজ নিজ বাসভবন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে অত্যন্ত সহজে রাজধানী পৌঁছে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ বা প্রয়োজনীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সেরে নিতে পারবেন। এর পাশাপাশি একইদিন সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে একটি সুবিধাজনক ফিরতি ট্রেন চালু করা গেলে সমস্ত কাজ শেষে রাতের মধ্যেই মানুষ নিরাপদে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হবেন।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে আরও বলেন, বেনাপোল, যশোর সদর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চিকিৎসার প্রয়োজন ও কাজের তাগিদে ঢাকার উদ্দেশে যাতায়াত করে থাকেন। এসব রুটে ট্রেনের ট্রিপ বা যাত্রার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে তথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে আর্থিকভাবে বহুগুণ লাভবান হবে। এর পাশাপাশি যেকোনো দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেল যোগাযোগব্যবস্থা সর্বোচ্চ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি সড়কপথের তুলনায় এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অবিশ্বাস্য রকম কম।

এ সময় প্রকৌশলী রুহুল আমিন জনস্বার্থে সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ৬ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—অনতিবিলম্বে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে আধুনিক প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালু করা; সাধারণ, নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের সুগম যাতায়াতের স্বার্থে প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাধারণ শোভন বগি যুক্ত করা; দর্শনা-খুলনা এবং বেনাপোল-যশোর রুটে জরুরি ভিত্তিতে ডাবল রেললাইন স্থাপন করা; ট্রেনের সাধারণ আসন ভাড়ার হার সবসময় যাত্রীবাহী বাসভাড়ার চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে কম রাখা; যাত্রীদের অনলাইন টিকিটিং নিবন্ধনের বাইরে ম্যানুয়াল টিকিটের বিকল্প সুব্যবস্থা রাখা এবং প্রবীণ প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আন্তনগর ট্রেনগুলোতে স্থানীয় কৃষিপণ্য, তাজা ফুল, সবজি ও তাজা মাছ পরিবহনের জন্য অন্তত একটি নির্দিষ্ট মালামাল পরিবহন বগি সংযুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব রুহুল আমিন পূর্বের আন্দোলনের স্মৃতি উল্লেখ করে আরও বলেন, বিগত ২০২৩ সাল থেকেই যশোর অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে তারা এসব মৌলিক দাবিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সোচ্চার রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ে সরাসরি সরকারের তৎকালীন রেলমন্ত্রী, রেলসচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার অনুলিপি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এমনকি পূর্বে রেলসচিব ও মহাপরিচালকের সাথে যৌথ উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময়ের পাশাপাশি একাধিকবার সুশীল সমাজের মানববন্ধন, প্রতিবাদ বিক্ষোভ, টানা দুই দফা সরাসরি রেল অবরোধ এবং কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। এমনকি দাবির সপক্ষে অতীতে রেলওয়ের মহাপরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করতে পিছপা হননি তারা।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিপূর্বে যৌক্তিক আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে তৎকালীন রেলসচিব ও মহাপরিচালক যশোরবাসীকে লিখিত ও মুখে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই এই রুটে আরও একটি নতুন আধুনিক আন্তনগর ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু চলতি অক্টোবর মাস পার হয়ে গেলেও নতুন প্রভাতী ট্রেন চালু করার কোনো কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অথচ ইতিমধ্যে বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে নতুন ট্রেনের আধুনিক রেক বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আগামী এক মাসের সময়সীমার মধ্যে যদি ঢাকা-যশোর প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালুর সুনির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা না আসে, তবে তারা যশোর জংশন অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ করে সারাদেশের সাথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

এদিকে কালেক্টরেট চত্বরে আয়োজিত প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি শেষে আন্দোলনরত নাগরিকরা যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মহামান্য রেলমন্ত্রী বরাবর একটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। যশোরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে পাঠিয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় আশ্বাস দেন।