খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলায় অত্যন্ত সুকৌশলে মুড়ির প্যাকেটের ভেতরে রেখে দেওয়া ‘বোমা’ বিস্ফোরিত হয়ে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামের এক স্থানীয় জামায়াত নেতা গুরুতর আহত ও ঝলসে গেছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার সেনহাটি এলাকার ‘কলের পুকুর’-এর পশ্চিম পাশে অবস্থিত তাঁর নিজ বসতঘরে এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। বিকট শব্দের এই বিস্ফোরণে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় এবং সমগ্র এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মনিরুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজ আদায় শেষে স্থানীয় মসজিদ থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় ঘরের প্রধান দরজার ঠিক সামনে পলিথিনের একটি প্যাকেটে কিছু মুড়ি দেখতে পান তিনি। প্রতিবেশীদের কেউ ভুল করে তা ফেলে রেখে গেছে মনে করে তিনি প্যাকেটটি কুড়িয়ে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। তবে ঘরে নিয়ে সেটি পলিথিন থেকে বের করার কিছুক্ষণ পর পলিথিনটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
এই আকস্মিক বিস্ফোরণে মনিরুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। পাশাপাশি বিস্ফোরণের স্ফুলিঙ্গে বসতঘরের ভেতরের বিভিন্ন কাঠের আসবাবপত্রে আগুন লেগে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিকট আওয়াজ ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরূপ কুমার চৌধুরী জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত ও নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিক বিচারে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকায় ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে এ ধরনের কায়দায় এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। উক্ত হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে।


























