রাজধানী ঢাকার আভিজাত্যপূর্ণ এলাকা গুলশানের ‘কিংফিশার রেস্টুরেন্ট’-এ রাতভর এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে বৈধ কাগজপত্রহীন বিপুল পরিমাণ মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় নিষিদ্ধ পানীয় জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন চারটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার একটি সমন্বিত দল।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানের প্লট-৩৩, রোড-৪৫-এ অবস্থিত ‘কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেড’-এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রাঙ্গণে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা দীর্ঘ এই অভিযানে মূলত অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, অননুমোদিত মজুত এবং বিক্রির মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এনবিআরের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই অভিযানের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বিশেষ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বাজারজাত করা হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কড়া নজরদারির পর এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, মূলত অবৈধ উৎস ও চোরাচালানের মাধ্যমে সংগৃহীত অ্যালকোহলের গোপন মজুত শনাক্ত করা, এসব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সঠিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে কি না, বিক্রয়লব্ধ অর্থের পরিমাণ নিয়মিত আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নেপথ্যে কোনো প্রকার অর্থপাচারের (মানি লন্ডারিং) যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতেই এই সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এনবিআরের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরো অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এতে সমন্বিতভাবে সরাসরি অংশ নেয় সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)। আর অভিযান চলাকালে পুরো এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)।
বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের বিদ্যমান কাস্টমস আইন, ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালাসহ আয়কর আইন, ২০২৩-এ প্রদত্ত আইনি ক্ষমতাবলেই এই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানের মাধ্যমে জব্দ করা এসব বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক ও কর ফাঁকির আনুমানিক আর্থিক পরিমাণ এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত আইনানুগ ব্যবস্থা সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।


























