Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

এমবাপের জোড়া গোলে বার্সেলোনাকে হারিয়ে এল ক্লাসিকো জিতল রিয়াল

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

পুরো ম্যাচে বলের দখলে নিজেদের স্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করা এবং একের পর এক মুহুর্মুহু আক্রমণ শাণানো সত্ত্বেও দিনশেষে কাঙ্ক্ষিত জয়োল্লাস করতে পেরেছে লস ব্লাঙ্কোস খ্যাত রিয়াল মাদ্রিদ। হাইভোল্টেজ এল ক্লাসিকোর এই মহাযুদ্ধে বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও পুরো আলো নিজের দিকে কেড়ে নিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। তার দুর্দান্ত গতির দুর্ধর্ষ জোড়া গোলের সুবাদে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

স্প্যানিশ লা লিগায় টানা নয়টি ম্যাচ জেতার পর অবশেষে এই প্রথম হারের তিক্ত স্বাদ পেল ক্যাটালান ক্লাব বার্সা। শুধু তাই নয়, ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত ও জয়ী থাকার গৌরবময় রেকর্ডটিতেও ছেদ পড়ল এই ম্যাচের মাধ্যমে।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে ভাগ্য ও প্রতিপক্ষের মারাত্মক ভুলে নাটকীয়ভাবে প্রথম গোল পেয়ে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইয়ান ডিওমান্ডের বক্সের ভেতর থেকে বাড়ানো পাস ক্লিয়ার করার অপচেষ্টায় ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন ভুলবশত সজোরে বল মেরে বসেন ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে যাওয়া এমবাপের পায়ে; সেখান থেকে বল সরাসরি জড়িয়ে যায় বার্সার জালের ভেতরে!

উল্লেখ্য, বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা ক্যারিয়ারের ১১টি ম্যাচে এটি এমবাপের ১৩তম গোল, যার মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে একাই কেবল ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামেই করেছেন ১০টি গোল! তবে ব্যক্তিগত ১১তম গোলটি পেতে ফরাসি এই তারকাকে ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর আগে অবশ্য ম্যাচের ৬১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়ার নিখুঁত গোলে সমতা ফিরিয়েছিল বার্সা।

ম্যাচে রিয়ালের অবিশ্বাস্য এই জয়ের পর কোচ জোসে মরিনিও দলের গোলকিপার আন্দ্রে লুনিনকে আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইউক্রেনীয় এই গোলকিপারের মূল একাদশে খেলার কথা ছিল না। নিয়মিত এক নম্বর গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া আকস্মিক ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ায় শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান লুনিন। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের নেওয়া বুলেট গতির হেড থেকে নিশ্চিত গোল পেত বার্সা, যা কেবল লুনিনের অসাধারণ রিফ্লেক্সের কারণেই রক্ষা পায়। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলায় বার্সার উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের নেওয়া অন্তত তিনটি নিশ্চিত শট অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন এই ইউক্রেনীয় গোলকিপার।

এমবাপের কাছে প্রথম গোল হজম করার পর ম্যাচে দ্রুত সমতায় ফেরার জন্য রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছিল হান্সি ফ্লিকের বার্সা। গোল হজমের ঠিক তিন মিনিট পরেই তারা গোলের মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিল। মিডফিল্ডার পেদ্রির দারুণ একটি লব পাস পেয়ে বক্সের ডান কোণায় গোলকিপার লুনিনকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু সহজ সেই সুযোগটি কাজে না লাগিয়ে কেন তিনি বল কাছের পোস্টের বাইরে মেরে বসলেন, তা নিয়ে সম্ভবত ইয়ামাল নিজেই দীর্ঘক্ষণ ভাববেন।

তবে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে কোনো ভুল করেননি দলের অন্যতম ভরসা রাফিনিয়া। বরাবরের মতো এবারও বক্সের ডান দিক থেকে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন সেই পেদ্রি। সামনে ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও চমৎকার ও নিখুঁত এক শটে ৬১ মিনিটে দারুণ গোল আদায় করে নেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড। চলতি লিগে এটি তার ৯ ম্যাচে ১৩ নম্বর গোল, সার্বিকভাবে এল ক্লাসিকোয় এটি তার ৮ম এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে ১৫তম গোল। রাফিনিয়ার সেই দর্শনীয় গোল সমতা ফিরিয়ে আনলে ক্যাম্প ন্যুর বিশাল গ্যালারি গর্জে ওঠে। তবে গ্যালারির সেই বাঁধভাঙা উল্লাস চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে কিলিয়ান এমবাপের ঠিক ২৬ মিনিট সময় লেগেছিল।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

এমবাপের জোড়া গোলে বার্সেলোনাকে হারিয়ে এল ক্লাসিকো জিতল রিয়াল

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পুরো ম্যাচে বলের দখলে নিজেদের স্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করা এবং একের পর এক মুহুর্মুহু আক্রমণ শাণানো সত্ত্বেও দিনশেষে কাঙ্ক্ষিত জয়োল্লাস করতে পেরেছে লস ব্লাঙ্কোস খ্যাত রিয়াল মাদ্রিদ। হাইভোল্টেজ এল ক্লাসিকোর এই মহাযুদ্ধে বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও পুরো আলো নিজের দিকে কেড়ে নিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। তার দুর্দান্ত গতির দুর্ধর্ষ জোড়া গোলের সুবাদে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

স্প্যানিশ লা লিগায় টানা নয়টি ম্যাচ জেতার পর অবশেষে এই প্রথম হারের তিক্ত স্বাদ পেল ক্যাটালান ক্লাব বার্সা। শুধু তাই নয়, ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত ও জয়ী থাকার গৌরবময় রেকর্ডটিতেও ছেদ পড়ল এই ম্যাচের মাধ্যমে।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে ভাগ্য ও প্রতিপক্ষের মারাত্মক ভুলে নাটকীয়ভাবে প্রথম গোল পেয়ে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইয়ান ডিওমান্ডের বক্সের ভেতর থেকে বাড়ানো পাস ক্লিয়ার করার অপচেষ্টায় ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন ভুলবশত সজোরে বল মেরে বসেন ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে যাওয়া এমবাপের পায়ে; সেখান থেকে বল সরাসরি জড়িয়ে যায় বার্সার জালের ভেতরে!

উল্লেখ্য, বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা ক্যারিয়ারের ১১টি ম্যাচে এটি এমবাপের ১৩তম গোল, যার মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে একাই কেবল ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামেই করেছেন ১০টি গোল! তবে ব্যক্তিগত ১১তম গোলটি পেতে ফরাসি এই তারকাকে ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর আগে অবশ্য ম্যাচের ৬১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়ার নিখুঁত গোলে সমতা ফিরিয়েছিল বার্সা।

ম্যাচে রিয়ালের অবিশ্বাস্য এই জয়ের পর কোচ জোসে মরিনিও দলের গোলকিপার আন্দ্রে লুনিনকে আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইউক্রেনীয় এই গোলকিপারের মূল একাদশে খেলার কথা ছিল না। নিয়মিত এক নম্বর গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া আকস্মিক ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ায় শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান লুনিন। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের নেওয়া বুলেট গতির হেড থেকে নিশ্চিত গোল পেত বার্সা, যা কেবল লুনিনের অসাধারণ রিফ্লেক্সের কারণেই রক্ষা পায়। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলায় বার্সার উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের নেওয়া অন্তত তিনটি নিশ্চিত শট অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন এই ইউক্রেনীয় গোলকিপার।

এমবাপের কাছে প্রথম গোল হজম করার পর ম্যাচে দ্রুত সমতায় ফেরার জন্য রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছিল হান্সি ফ্লিকের বার্সা। গোল হজমের ঠিক তিন মিনিট পরেই তারা গোলের মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিল। মিডফিল্ডার পেদ্রির দারুণ একটি লব পাস পেয়ে বক্সের ডান কোণায় গোলকিপার লুনিনকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু সহজ সেই সুযোগটি কাজে না লাগিয়ে কেন তিনি বল কাছের পোস্টের বাইরে মেরে বসলেন, তা নিয়ে সম্ভবত ইয়ামাল নিজেই দীর্ঘক্ষণ ভাববেন।

তবে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে কোনো ভুল করেননি দলের অন্যতম ভরসা রাফিনিয়া। বরাবরের মতো এবারও বক্সের ডান দিক থেকে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন সেই পেদ্রি। সামনে ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও চমৎকার ও নিখুঁত এক শটে ৬১ মিনিটে দারুণ গোল আদায় করে নেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড। চলতি লিগে এটি তার ৯ ম্যাচে ১৩ নম্বর গোল, সার্বিকভাবে এল ক্লাসিকোয় এটি তার ৮ম এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে ১৫তম গোল। রাফিনিয়ার সেই দর্শনীয় গোল সমতা ফিরিয়ে আনলে ক্যাম্প ন্যুর বিশাল গ্যালারি গর্জে ওঠে। তবে গ্যালারির সেই বাঁধভাঙা উল্লাস চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে কিলিয়ান এমবাপের ঠিক ২৬ মিনিট সময় লেগেছিল।