Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে মকতবে ধর্ষণ মামলায় ইমাম মুছা হুজুরের যাবজ্জীবন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় একটি মকতবে আরবি পড়তে যাওয়া এক কিশোরীকে সুকৌশলে ধর্ষণের অপরাধে মো. মুছা মিয়া ওরফে ‘মুছা হুজুর’ নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত মুছা মিয়া (২৭) গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার হরিচন্ডি গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলামের সুযোগ্য পুত্র বলে জানা গেছে।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি স্থানীয় মসজিদে এই বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় ভুক্তভোগী ওই কিশোরীটির বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর এবং সে নিয়মিত ওই মসজিদে আরবি শিক্ষা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করত। অভিযুক্ত মুছা মিয়া সেই মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি শিশুদের আরবি পড়াতেন।

মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা হয় যে, অভিযুক্ত মুছা মিয়া প্রতিদিনের মতো অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগী কিশোরীকে ফাঁকা মসজিদে আটকে রাখতেন এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করাতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে একই কায়দায় গত ১ ও ২ ডিসেম্বরও ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে মামলার অভিযোগে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরীটির স্বাভাবিক আচরণে আকস্মিক পরিবর্তন ও তার মানসিক অবসাদ লক্ষ্য করে তার মা বিষয়টি নিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণ জানতে পারেন। এরপর ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত বিশেষ কৌসুলী ও আইনজীবী ফজলুল হক আদালতের রায় প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান, “আদালতে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কাঠগড়ায় আসামির সরাসরি উপস্থিতিতে বিজ্ঞ বিচারক এই রায় প্রদান করেছেন। আদালতের এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করছি।”

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে মকতবে ধর্ষণ মামলায় ইমাম মুছা হুজুরের যাবজ্জীবন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় একটি মকতবে আরবি পড়তে যাওয়া এক কিশোরীকে সুকৌশলে ধর্ষণের অপরাধে মো. মুছা মিয়া ওরফে ‘মুছা হুজুর’ নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত মুছা মিয়া (২৭) গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার হরিচন্ডি গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলামের সুযোগ্য পুত্র বলে জানা গেছে।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি স্থানীয় মসজিদে এই বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় ভুক্তভোগী ওই কিশোরীটির বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর এবং সে নিয়মিত ওই মসজিদে আরবি শিক্ষা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করত। অভিযুক্ত মুছা মিয়া সেই মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি শিশুদের আরবি পড়াতেন।

মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা হয় যে, অভিযুক্ত মুছা মিয়া প্রতিদিনের মতো অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগী কিশোরীকে ফাঁকা মসজিদে আটকে রাখতেন এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করাতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে একই কায়দায় গত ১ ও ২ ডিসেম্বরও ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে মামলার অভিযোগে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরীটির স্বাভাবিক আচরণে আকস্মিক পরিবর্তন ও তার মানসিক অবসাদ লক্ষ্য করে তার মা বিষয়টি নিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণ জানতে পারেন। এরপর ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত বিশেষ কৌসুলী ও আইনজীবী ফজলুল হক আদালতের রায় প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান, “আদালতে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কাঠগড়ায় আসামির সরাসরি উপস্থিতিতে বিজ্ঞ বিচারক এই রায় প্রদান করেছেন। আদালতের এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করছি।”