ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো মতামত বা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির নবম বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ ৪৪ জন অতিথি উপস্থিত থেকে তাঁদের মৌখিক ও লিখিত মতামত পেশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ তুলে ধরে জানান, এতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া, গণভোট এবং সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত ও ভোটদানের ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, আস্থার ভোট ও জাতীয় নিরাপত্তা—এই চারটি স্পর্শকাতর বিষয় ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার প্রস্তাবটি পর্যালোচিত হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের সদস্য মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়েও ঐকমত্য রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও উচ্চকক্ষ গঠনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সংসদে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠিত হলে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলেও উচ্চকক্ষ বহাল রেখে তার স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কি না—এমন এক বিকল্প আলোচনায় এসেছে। তবে এসব আলোচনার কোনোটিই এখনও চূড়ান্ত নয় এবং প্রাপ্ত সকল প্রস্তাব পর্যালোচনা করে রিপোর্টে বিভিন্ন বিকল্প সুপারিশ আকারে উপস্থাপন করা হবে। বিরোধী দলের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের বিধান না থাকায় তারা সংসদীয় বিশেষ কমিটি হিসেবেই সংবিধান সংশোধনের সার্বিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।






















